সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : চা বানিয়ে বা খেয়ে কি কি না হওয়া যায়। হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, হয়ে যেতে পারেন নিমেষে ভাইরাল। না অলোকের অত ক্ষমতা নেই। অত ইচ্ছেও নেই। চা বানিয়ে বিক্রি করে মাসে লাখ খানেক হলেই হল। বলেনি কী? চা বানিয়ে মাসে লাখের বেশি রোজগার। হ্যাঁ, অবাক লাগলেও এটাই সত্য।

‘অলোকের চা’ এতটাই বিখ্যাত , এতটাই তার পসার। কিন্তু দোকান ছোট্ট। কিন্তু রোজগার , অঙ্কটা বেশ বড়। এই লকডাউনের বাজারে যখন অনেকেই রোজগার নিয়ে চিন্তিত তখন খোশ মেজাজেই আছেন রানিহাটির অলোক মণ্ডল। এই বাজারেও ভালোই রোজগার হচ্ছে। আর এতেই খুশি সে।

জানালেন , ‘স্বাভাবিক সময়ে গড়ে ১০০০-১২০০ কাপ প্রত্যহ বিক্রি হয়।শনিবার সেই সংখ্যাটা আরেকটু বেড়ে যায়।আগে ছোটো কাপ ৫ ও বড়োকাপ ১০ টাকা থাকলেও বাজারদর বাড়ায় ছোটোকাপ ৬ টাকা ও বড়োকাপ ১২ টাকা করেছি।’ এবার অঙ্কটা কষে নিন।

চা করতেই করতেই ছোটো গাববেড়িয়ার বাসিন্দা অলোক মন্ডল জানালেন,’দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে আমি এই দোকান চালাচ্ছি।কেন জানিনা আমার হাতের চা খেয়ে মানুষ খুব তৃপ্ত হন।বহু দূর থেকে চা’এর টানে মানুষ আসেন।প্রতিদিন কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথেও বহু মানুষ দোকানে চা খেয়ে বাড়ি ফেরেন।

‘ অলোকের চা’এর স্বাদ এমনই। লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল দোকান। সবেমাত্র দোকান খুলেছে। শুরু হয়ে গিয়েছে চেনা ভিড়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে তাই বাধ্য হয়ে দোকানের সামনে অলোক ব্যবস্থা করেছেন বাঁশের ব্যারিকেডের।

দোকানে বসে আড্ডা মেরে চা ভাঁড়ে তুফান তোলার জায়গা নেই অলোকের দোকানে। লাইনে দাঁড়িয়ে প্রথমে পয়সা দিয়ে চা নিতে হবে। দাঁড়িয়েই চা খেতে হবে। অলোক মন্ডল একা এত চায়ের অর্ডার একা সামলাতে পারেন না। সঙ্গে রয়েছেন আরও দু’ই সহযোগী। সকাল থেকে সন্ধ্যা নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই অলোকের। দিনরাত কার্যত এক করে মানুষকে চা’খাইয়ে চলেন বছর পঞ্চাশের এই চা ব্যবসায়ী।

আর সে-ই টানেই বহু দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন বহু মানুষ। কেউ সাইকেল চালিয়ে আবার বা বাইক চেপে ৮-১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ‘অলোকের চা’য়ের জন্য ছুটে আসেন। শুনতে গল্প মনে হলেও আদতে সেটাই ঘটে।

এক বা দু’বছর নয় দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে গ্রামীণ হাওড়ার আমতা-রাণীহাটি রোডের ধারে রাণীহাটিতে চা বিক্রি করছেন অলোক মন্ডল। তাঁর চায়ের স্বাদের খ্যাতি সুদূরবিস্তৃতি লাভ করেছে। আর তার টানেই বহু দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসেন এক কাপ চায়ে চুমুক দিতে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা সবসময়ই দোকানের সামনে ভিড় লেগে থাকে। আগে টাকা দিলে তবেই মেলে চা। স্থানীয় মানুষ তো রয়েইছেন,পাশাপাশি আমতা-রাণীহাটি রোডের উপর দিয়ে যাওয়া গাড়ির ড্রাইভার,বহু যাত্রীও স্বাদ ছাড়তে নারাজ।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প