স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় পড়ুয়াদের জন্য অনেক সুবিধা দিয়েছেন৷ মেয়েদের জন্য চালু করেছে বিভিন্ন প্রকল্প৷ কিন্তু বর্ধমানের এক নামী সরকারি স্কুলের প্রাথমিক বিভাগে চার বছরেরও পৌঁছালো না সরকারি সুযোগ সুবিধা৷ আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্রমশ অসন্তোষ দানা বাধছে অভিভাবকদের মধ্যে। অভিভাবকরা ইতিমধ্যেই ন্যায় বিচারের আশায় রাজ্য সরকার তথা জেলা প্রশাসনের দরজাতেও কড়া নেড়েছেন৷ কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি৷

বর্ধমান শহরের বিসিরোডের খ্যাতনামা স্কুল সিএমএস। সেই স্কুলের সরকারি প্রাথমিক বিভাগেই এই অনিয়মকে ঘিরেই এখন শোরগোল পড়েছে। স্কুলের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে ছাত্রদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে স্কুলে এবং বিশেষতই প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পোশাক এবং জুতো দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে৷ কিন্তু প্রায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে সিএমএসের প্রাথমিক বিভাগে এই ধরণের কোনো সুবিধাই দেওয়া হয়নি ছাত্রদের।

আর এই ঘটনায় সরাসরি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন সবাই। এমনকি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক দুর্নীতিরও অভিযোগে সরব হয়েছেন অভিভাবকরা। অভিযোগ, গত ২০১৬ সাল থেকেই নানাবিধ অনিয়ম শুরু হয়েছে। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক শাহ আলমের সঙ্গে বর্তমান প্রধান শিক্ষক সুভাষ চৌধুরীর বিরোধ এখন বিচারাধীন। এই স্কুলে হয় না শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও।

কার্যত প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছাচার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। বর্তমান প্রধান শিক্ষক আর্থিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। আগের প্রধান শিক্ষক চলে যাওয়ার সময় প্রধান শিক্ষককে ৩৭ হাজার টাকা সহ স্কুলের ফান্ডের যাবতীয় হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে যান। তিনি তা লিখিতভাবে গ্রহণও করেন। কিন্তু তারপর আর ওই টাকার কোনেও হিসাব দিচ্ছেন না।

এমনকি রাজ্য সরকার স্কুলের ছেলেমেয়েদের জন্য, খাতা, ব্যাগ, পোশাক, জুতো প্রভৃতি একাধিক সুবিধা দিচ্ছে – যা অন্য স্কুলগুলিতে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকারি সেই টাকা এই স্কুলে এলেও অজ্ঞাত কারণে তা ছাত্রদের মধ্যে বণ্টন করা হয়নি বিগত কয়েকবছর ধরেই। বর্তমানে ৫০০-রও বেশি ছাত্র রয়েছে এই স্কুলে।

দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের নিয়ে কোনো বৈঠক করেননি। বারবার স্কুলের নানাবিধ অসুবিধা নিয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তাতে কোনো লাভই হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রধান শিক্ষকের ঘরটিকে অজ্ঞাত কারণে তালাবন্ধ করে রেখে দিয়েছেন। তিনি সেখানে না বসে শিক্ষকদের সঙ্গে স্টাফ রুমে বসে কাজ করছেন। যা দৃষ্টিকটু এবং অসম্মানজনকও বলে দাবি করেন অভিভাবকরা।

স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে স্কুলের ছাত্র ভরতির জন্য ২৪০ টাকা করে ফি নেওয়া হলেও সেই টাকার কোনেও হদিশ মেলেনি। অভিযোগ, প্রধান শিক্ষককে বারবার বলেও তার কোনেও সদুত্তর মেলেনি। এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সুভাষ চৌধুরী ভরতির জন্য টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন৷ সেই টাকা কোন অ্যাকাউন্টে রাখা হয়েছে সে প্রশ্ন বারবার এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি।

অন্যান্য শিক্ষক থেকে অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই টাকা প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত হেফাজতে রেখেছেন। তার উত্তরে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, স্কুলে মিড ডে মিল চলছে। তার কোনও খরচ তিনি পান না। এছাড়াও স্কুলের অন্যান্য খরচও রয়েছে। ওই ভরতি ফি-র টাকা থেকেই তিনি খরচ করছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নিলেও প্রধান শিক্ষকের ঘরের চাবি তিনি পাননি। এমনকি স্কুলের যে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তাও তিনি ব্যবহার করতে পারেননি। এই বিষয়ে যা বলার তিনি তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এই অনিয়মের বিষয়ে জেলাশাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। সরকারি নিয়ম সকলেই মেনে চলতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।