এগিয়ে আসছে PNS Ghazi! তিনিই খবর দিয়েছিলেন ইন্দিরাকে

নয়াদিল্লি: সম্প্রতি ভারতীয় গুপ্তচর সন্দেহে কুলভূষণ যাদবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি বালোচিস্তানে ঢুকে চরবৃত্তি করছিলেন কুলভূষণ। আর ভারতের দাবি, তাঁর সঙ্গে RAW-এর কোনও সম্পর্ক নেই। আদৌ আছে কি নেই সেট অন্য প্রশ্ন। তবে আমরা এটুকু জানি, RAW-এর আধিকারিকরা অপরিচিত হয়েই থেকে যান। অনেক বছর বাদে জানা যায় তাঁদের কীর্তি।

আর এন কাও-এর নাম তো শুনেছেন। তিনিই RAW-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর কিছু গল্প আজও অনেকের অজানা। তিনি একটা ফোনেই বদলে দিতেন একটা ইতিহাস।

১৯৪০-এ পুলিশে যোগ দেন কাও। উনিশের এসিপি হিসেবে ভিভিআইপি নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। জওহরলাল নেহরুর নিরাপত্তা বলয়ের ইনচার্জ ছিলেন তিনি। চিন-ভারত যুদ্ধে ব্যর্থতার পর তৈরি হয় RAW. ইন্দিরা গান্ধীর চোখ-কান হয়ে উঠেছিলেন কাও।

- Advertisement -

১৯৭১-এর ভারত-পাক যুদ্ধের দুটি বাহিনী ছিল একদল গোয়েন্দা আর একদল আর্মি। আর এন কাও আর সেনাপ্রধান মানেকশ দু’জনেই ইন্দিরা গান্ধীর কাছে রিপোর্ট জমা দিতেন। পূর্ব-পাকিস্তানে ঢুকে স্থানীয় মানুষের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার বুদ্ধি দিয়েছিলেন কাও। পূর্ব সীমান্ত গেরিলা ক্যাম্পও তৈরি করা হয়েছিল। যেখানে মুক্তি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই চলছিল সেই ট্রেনিং। পাকিস্তান আর্মি যে শেখ মুজিবর রহমানকে হত্যার চেষ্টা করছে, সেই খবর প্রথম দিয়েছিলেন কাও। তিনিই এই তথ্য দিয়েছিলেন যে বিশাখাপত্তনম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে পাক যুদ্ধজাহাজ পিএনএস গাজী। সেই তথ্য জানার পরেই ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে ধ্বংস হয় পিএনএস গাজী। এসব গোপন তথ্য ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বিখ্যাত হয়ে ওঠেন কাও। তাঁর সদস্যদের বলা হত কাও-বয়। তাঁর নামে রীতিমত কাঁপত শত্রুরা। আফগানিস্তান, চিন, আফ্রিকা, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাও-এর যে যোগাযোগ ছিল তা অভাবনীয়।

চর হিসেবে এতটাই ভালো ও জ্ঞানী ছিলেন যে তাঁর বিকল্প আর তৈরি হয়নি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। শেষ বয়সে এনজিও চালাতেন তিনি। ২০০২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। চিরকাল নিঃশব্দে কাজ করে গিয়েছিলেন তিনি। দেশের কত মানুষ যে তাঁর জন্য রক্ষা পেয়েছেন তার কোনও হিসেব নেই। প্রত্যেক ভারতবাসী তাঁর কাছে ঋণী, তাঁর কাছে ঋণী বাংলাদেশও।

All rights reserved by @ Kolkata24x7 II প্রতিবেদনের কোন অংশ অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
-