ইসলামাবাদ: রুপোলি পর্দার গল্প যে কেউ অনায়াসে বলতে পারেন মহম্মদ ফইয়াজের কীর্তিকে৷ অথবা তার কাজ নিয়েই হয়ে যেতে পারে আস্ত এক ছবি৷ ৩২ বছরের পাকিস্তানি পপকর্ন বিক্রেতাই নজর কাড়লেন পাকিস্তান এয়ারফোর্সের৷ কীভাবে? তৈরি করে ফেললেন আস্ত এক প্লেন যা চলে রোড কাটার ইঞ্জিনে এবং এই প্লেনের রয়েছে বার্ল্যাপ উইংস-ও৷

ফইয়াজের এই কীর্তি প্রকাশ্যে আসার পরই রাতারাতি তিনি জায়গা করে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে৷ কিন্তু কীভাবে এই পপকর্ন বিক্রেতা তৈরি করলেন এই প্লেন?

সূত্রের খবর, ফইয়াজ টিভি ক্লিপস্ এবং অনলাইন ব্লু-প্রিন্টে ভরসা করেই এমন একটি কাজ করতে পেরেছেন৷ ফইয়াজ এক সংবাদ সংস্থাকে জানান, আমি বাতাসে ভাসছি, এছাড়া আর কিছুই অনুভ করতে পারছি না৷ ফইয়াজের এই কাজই আকর্ষণ করেছে পাকিস্তান এয়ারফোর্সকেও৷ তাদের আধিকারিক ইতিমধ্যেই একাধিকবার দেখা করে গিয়েছে ফইয়াজের সঙ্গে৷ পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থান থেকে আরও অনেকেই মধ্য পঞ্জাবের তাবুর গ্রামে ফইয়াজের বাড়িতে ছুটে আসছেন একবার এই প্লেন চাক্ষুষ করতে৷

জানা যায়, ছোট থেকেই ফইয়াজের স্বপ্ন ছিল পাকিস্তান এয়ারফোর্সে যুক্ত হওয়ার৷ কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর তাকে বাধ্য হয়েই স্কুল ছাড়তে হয় এবং কম টাকা পেলেও শুরু করতে হয় সংসার টানার কাজ৷ কারণ বাড়িতে রয়েছেন তাঁর মা এবং পাঁচ ভাই-বোন৷ বর্তমানে দিনের বেলায় ফইয়াজ পপকর্ন বিক্রি করেন এবং রাতে সিকিওরিটি গার্ডের কাজ করেন৷

সে প্রথম ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক-এ এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেসন দেখেই এই প্লেন তৈরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল৷ পরে তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বাড়ির জমির একটি অংশ বিক্রি করে ৫০,০০০ টাকায় শুরু করেন তাঁর কাজ৷ একবছরের কঠিন পরিশ্রমের পর চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতেই তার এই প্লেন তৈরি হয়ে যায়৷ প্রত্যক্ষদর্শী আমীর হুসেন জানান, এটি ওড়ার আগে ১২০kph যেতে পারে৷ মাটি থেকে ২ থেকে আড়াই ফুট ওপরে উঠতে পারে প্লেনটি৷ অবতরণের আগে ২ থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে ফইয়াজের সৃষ্টি৷