লস আঞ্জেলস : ‘বিয়ে’ দুই অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দ। জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটিকে ঘিরে অনেক রঙিন স্বপ্ন থাকে সকলের মনেই। বিয়ে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন না বা ভাবেন না কিছু, এমন আজব মানুষ গোটা বিশ্বে খুঁজলেও একটা পাবেন কিনা এটা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবে বিয়ে ছোটো করে হোক বা ধুমধাম করে, জীবনের এই দ্বিতীয় অধ্যায়ের সূচনা সব ছেলে-মেয়েই চায় একটু বিশেষ ভাবে উদযাপন করতে। যেখানে ফুটে উঠবে আধুনিকতার ছোঁয়া এবং পারস্পারিক মেলবন্ধনের সৌহার্দ্যপূর্ণ হৃদয়ের ছবি।

হ্যাঁ, তেমনই একটি জাঁকজমকপূর্ণ জমকালো বিয়ের আসর বসেছিল মার্কিন মুলুকে। তবে বিবাহিত যুগল সমকামী দুই পুরুষ। জন্মসূত্রে ভারতীয়। কিন্তু পড়াশোনা এবং পরবর্তী জীবনে চাকরির কারণে সেখানেই থেকে গিয়েছেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, টলি-বলির সেলিব্রেটিদের মতন তাঁরাও নিজেদের ওয়েডিং ডেসটিনেশন হিসেবে আমেরিকাকেই বেছে নিয়েছেন। তবে জমকালো এই বিয়ের অনুষ্ঠানের সমস্ত নিয়মকানুনই ভারতীয় রীতি মেনেই হয়েছে। এখানে অবশ্য কোনও পাত্রী নেই। বিবাহিত এই নবদম্পতি দুজনেই সমকামী। অবশ্য সেটা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কোনও সমস্যা দেখা দেয়নি। বরং তাঁদের এই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে খোদ মার্কিন মুলুকে উড়ে গিয়েছেন দুই পরিবারের আত্মীয় পরিজনরা।

আর যা ছিল, ভারত তথা আমেরিকার সাম্প্রতিক সময়ের সেলিব্রেটিদের বিয়ের অনুষ্ঠানের থেকেও সবথেকে বেশি স্টাইলিশ বিয়ের আসর। কি ছিল না বিয়ের অনুষ্ঠানে। মেহেন্দি থেকে শুরু করে সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। কোনও কিছুতেই খামতি ছিল না তাঁদের এই বিয়ের অনুষ্ঠানে। এছাড়াও প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানপর্বে তাঁদের পরনে ছিল দুনিয়ার সব নামকরা ডিজাইনার দিয়ে তৈরি করা পোশাক। যা একবার দেখলে আপনার চোখ ধাঁধিয়ে যেতে বাধ্য।

ভারতীয় বংশোদ্ভুত সমকামী ওই দুই যুগলের নাম অমিত শাহ ও আদিত্য মাদুরাজু। যারা নিজেদের বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখবার জন্য একটু বিশেষ ভাবেই জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটির উদযাপন করেছেন। তাঁদের কথায়, ”ভালোবাসা-ভালোবাসা। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তটাকে একটু বিশেষ ভাবে উদযাপন করতেই এই আয়োজন।” মার্কিন মুলুকের নিউজার্সির বাসিন্দা এই যুগল তাঁদের বিয়ে সেরেছেন শ্রী স্বামী নারায়ন মন্দিরে। সেখানেই সাড়ম্বরে বিয়ের যাবতীয় অনুষ্ঠান পালন করেন তাঁরা।

ভারতীয় অবাঙালিদের বিয়েতে মেহেন্দির অনুষ্ঠান সবথেকে বেশি প্রাধান্য পাই। অমিত-আদিত্যর বিয়েতেও ছিল মেহেন্দির আয়োজন। এদিন মেহেন্দির অনুষ্ঠানের সময় আদিত্য ও অমিতের পরনে ছিল ডিজাইনার বোহামের তৈরি স্টাইলিশ কুর্তাসেট। অমিতের পরনে ছিল একটি ধূসর রঙের কুর্তা এবং আদিত্য পরেছিল কালো রঙের কুর্তাসেট।

এছাড়াও মেহেন্দির সঙ্গে সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছিল সঙ্গীত অনুষ্ঠানেরও। ককটেল স্টাইলে তাঁদের সঙ্গীত অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছিল। সঙ্গীতের সময়ও তাঁদের দুজনের পরনে ছিল ম্যাচিং করা কুর্তাসেট। তার ওপর ছিল প্রিন্টেড জ্যাকেট। অমিত ও আদিত্য এদিন যথাকর্মে নীল এবং কালো রঙের জ্যাকেট পড়েছিলেন।
শুধু তাই নয়, সাতপাকেবাঁধা পড়ার সময় এই সমকামী দম্পতির পোশাকও নজর কেড়েছে সকলের। জীবনের সবথেকে আনন্দঘন মুহূর্তের সময় তাঁদের দুজনের পরনে ছিল ম্যাচিং করা জরির কাজ করা কুর্তা। সঙ্গে গলায় ছিল লাল রঙের নেকলেস। এককথায় অনবদ্য সমকামী এই যুগলের বিয়ে যেন তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে।