সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : গবাদি প্রাণীকে বিভিন্ন সিনথেটিক অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড এবং ভিটামিন খাওয়ানো হচ্ছে। খাদ্য হিসাবে বিভিন্ন অ্যানিম্যাল প্রোডাক্ট ব্যবহারের কারনে এইসব রাসায়নিক পদার্থ মানুষের শরীরে জমা হয়ে বিভিন্ন রোগ হচ্ছে। এই জিনিষ থেকে বাঁচতে সঠিক বিকল্প হতে পরে এজোলার ব্যবহার যারা পুষ্টি সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাদ্য গবাদি পশুকে সরবরাহ করতে পারে।

এই এজোলা মাছ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে এর তুলনা হয়না, অথচ এর চাষ পদ্ধতি ও এর ব্যবহার নিয়ে আমাদের দেশে আলোচনা নেই বললেই চলে। চাষিদের অধিকাংশই এজোলা চেনে না। পাশাপাশি এটি অন্যতম পুষ্টি উপাদান কিন্তু আমাদের দেশে গবাদি পশুকে যে ধরনের খাদ্য সরবরাহ করা হয় তা সবই কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য উপাদান। কিন্তু দুগ্ধবতী গাভীর জন্য সরবরাহকৃত খাদ্যে একটি নিদিষ্ট মাত্রায় প্রোটিন থাকা দরকার। এজোলায় আছে সেই প্রয়োজনীয় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য।

এজোলা উৎপাদনে খরচ কম। এতে আছে প্রায় ২৪-৩০% প্রোটিন এবং এটা মাছ সহ অন্যান্য প্রাণীদেহে সহজে হজম হয় এবং এর বহুবিধ গুন রয়েছে, তাড়াও ধান ক্ষেতেও এক প্রকারের এজলা প্রাকৃতিক-ভাবে উৎপাদিত হয়, সেটা যদি আমরা জমির কাদার পা দিয়ে পিষ্টে দিতে পারলে তাহলেও সেটা হতে পারে উন্নতমানের নাইট্রোজেন জৈব সার। এজলা ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন খরচ কমে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। মাটির উর্বরতা বাড়ে, পরিবেশ ভালো থাকে। ধান ক্ষেতে উৎপাদিত এজোলা মাছ , গরু ও মুরগিকে খাওয়ানো যাবেনা, কারন জমিতে হেভি মেটাল থাকলে, এজোলা সেটা গ্রহণ করে, তাই নিরাপদ জায়গায় এজোলা চাষ করে মাছ, গরু ও মুরগিকে সেটা খাওয়াতে হয়।

সারা বছর এজলার বীজতলা সংরক্ষণ করা যেতে পারে। বৃষ্টি ও রোদ থেকে রক্ষার জন্য মাচা করা যেতে পারে। বীজতলায় সর্বদা ৮-১০ সেমি পানি থাকতে হবে।। প্রতি বর্গমিটার বীজতলার জন্য ২৫০-৫০০ গ্রাম গোবর বা ২০০ গ্রাম ঘন জীব অমূর্ত বা ৫০০ এম এলো তরল জীব অমূর্ত ১০-১২ দিন পর পর দিতে হবে। এজলা দেশের মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। এ প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগালে মাছ, গবাদিপশু, ডিম ও দুধের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য এজোলা বড় ভূমিকা পালন করবে।

এজোলা ফার্নজাতীয় ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ। তাই ধান ক্ষেতেও জন্মায়। এর ভাসমান গুচ্ছগুলি ত্রিকোণাকার। প্রতিটি ভাসমান গুচ্ছের প্রধান কা-র উভয় দিক থেকে ৮-৯টি শাখা বের হয়। প্রতিটি শাখায় ১০-১২টি পাতা উভয় দিকে একটির পর একটি সাজানো থাকে। যৌন বীজ ও অঙ্গজ উভয় পদ্ধতিতেই এজোলা বংশ বৃদ্ধি করতে সক্ষম। জলে ভাসমান অবস্থায় এজোলার বংশ বৃদ্ধি ভালো হয়। কাদামাটিতে এজোলা বেঁচে থাকতে পারে। সাধারণত ২৫-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তাই এর অঙ্গজ বংশ বিস্তার দ্রুত হয়। তাপমাত্রা বেশি হলে যেমন চৈত্র-বৈশাখ মাসে প্রচণ্ড গরম ও প্রখর রোদে এজোলা বংশ বৃদ্ধি করে না, তবে বেঁচে থাকে।

এজোলা ট্যাঙ্ক বানাতে হবে দৈর্ঘ্য ২ মিটার ও প্রস্ত ১ মিটার এই অনুপাতে এবং গভীরতা ১ ফুটের মত হলেই চলবে, ট্যাঙ্কের লেয়ারে ৮-১০ সেন্টি মিটার পুরু করে দোয়াস মাটি দিন, তারপর এক থেকে দেড় কেজি গোবর পানিতে গুলিয়ে দিন এর সাথে ভাল ফলাফলের জন্য আরও দিতে পারেন ১০ গ্রাম পরিমাণ সুপার ফসফেট অথবা ৫০০ গ্রাম ঘন জিবাম্রুত বা ২ লিটার তরল জীব আম্রুত, ঘন বা তরল জিবাম্রুত দিলে গোবর ও ফসফেট দেওয়ার দরকার নেই, তারপর সেখানে মাটি থেকে ৫-৬ ইঞ্চি বা ১৫ সেন্টি মিটার গভীর হয় মত পরিমাণ টিউবওয়েলের জল দিয়ে পূর্ণ করুন, জল দেওয়ার পর জলের উপরে ভেসে থাকা মাটির ফ্যানা থাকলে তুলে ফেলে দিন, তারপর সেখানে বীজ সরূপ ২০০ গ্রাম পরিমাণ সতেজ এজোলা ছেড়ে দিন, ১৫ অপেক্ষার পরেই এজোলা প্রস্তুত হয়ে যাবে মাছ মুরগি ও গ্রুর জন্য। তারপর বীজের জন্য ২০০-৩০০ গ্রাম রেখে বাদ বাকিগুলো সংগ্রহ করতে হবে। এভাবেই ১৫ দিন অন্তর এজোলা ফলন ঘরে তোলা যেতে পারে।