সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ভোটের পাল্লা কাদের দিকে ভারী? কে এগিয়ে? কে জিততে পারে। লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত এই প্রশ্নগুলি নিয়েই আলোচনা বাড়ছে। রাজনীতিবিদরা নানারকম বিশ্লেষণ , ব্যখ্যা দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি বলছেন “পাশা বদল হতেই পারে। বদল হতে বেশি সময় লাগে না।”

দিল্লিতে কে আসন বেশি পাবে সেই অঙ্ক পরিস্কার নয় পতাকা বিক্রেতা প্রশান্ত দত্ত। কিন্তু তিনি এটুকু বলেন যে , “ লোকসভা ভোট। কিছুই বলা যায় না। পাশা বদলাতেই পারে।” শহরের পুরনো চায়না বাজারে গত ৪০ বছর ধরে রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক বিভিন্ন ধরনের পতাকা বিক্রি করছেন প্রশান্তবাবু।

ছোট্ট দোকানে কখনও বাজার ভালো কখনও মন্দা যায়। এমন দিনযাপনে তিনি অভ্যস্ত। তেমনই অভ্যস্ত রাজনৈতিক হঠাৎ পালাবদল দেখতে। তিনি বলেন , “এরকমও দেখেছি প্রচুর ফ্ল্যাগ হয়েছে কোনও একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের। নাম করছি না। কিন্তু তারপরে সেই দলকে শুধু ভোটে হারতেই দেখেছি তা নয়। তারপর সেই দলের পশ্চিমবঙ্গ থেকে উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই বলব, ক্ষমতায় আসার কিছু আগে থেকেই তৃণমূলের পতাকা বিক্রি সবসময়েই বেশি। এই বছরও সেটাই হওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু ওই যে বললাম হাওয়া বদল হতে, পাশা উলটে যেতেই পারে। কিচ্ছু বলা যায় না।”

তিনি বলেন , “তৃণমূলের পতাকা ইতিমধ্যেই বিক্রি শুরু হয়ে গিয়েছে কিন্তু জানি না এই বছর কি হবে। বিজেপি’র ফ্ল্যাগের অর্ডার কিন্তু এখনও আসেনি। এবার দেখা যাক। তবে পতাকা বিক্রির দেখলে ওদের লাইন দ্বিতীয় স্থানেই থাকবে এখন তা স্পষ্ট।”

কথায় কথায় প্রশান্তবাবু বললেন , “এবারে মনে হচ্ছে দিল্লিতে কেউই একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবে না। আঞ্চলিক দলগুলোর সাহায্য কিন্তু লাগবে। ওটার উপরেই দিল্লির গদি বদল নির্ভর করছে।”

প্রসঙ্গত যেভাবে বিজেপি তৃণমূলের দল ভাঙিয়ে একের পর এক নেতাকে তাদের দলে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাতে রাজনীতিবিদরা মনে বলছেন, মুখে না বললেও রাজ্যে চাপে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সরকার। চেষ্টা করেও আটকাতে পারেননি ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং’কে। সম্ভবত তিনি বিজেপিতে গিয়েই লোকসভার টিকিটও পাচ্ছেন। টিকিট পেতে সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল নেতা অনুপম হাজরা এবং সৌমিত্র খাঁ। টিকিট পেতে পারেন শঙ্কুদেব পণ্ডাও। এদিকে মুকুল রায় বারংবার বলছেন এসবই ট্রেলার। সিনেমা এখনও অনেক বাকি। বাকি উত্তর লুকিয়ে ২৩ মে।