প্রত্যেক শহিদের পরিবারকে চিঠি লিখে ‘নীরব’ স্যালুট জানিয়ে যাচ্ছেন গুজরাতের জিতেন্দ্র

সুরাত: শত্রুদের সঙ্গে লড়াই করতে করতে যুদ্ধক্ষেত্রে শহিদ হওয়ার ঘটনা প্রতিনিয়ত খবরের শিরোনামে উঠে আসে। আবেগে ভাসে দেশবাসী। কিন্তু, ওই পর্যন্তই। দু-তিনদিন কাটতে না কাটতেই শহিদের নামটাই ভুলে যায় সবাই। শুধু মনে রাখে তার পরিবার-পরিজন। না, মনে রাখে আরও একজন। জিতেন্দ্র সিং। প্রত্যেক শহিদের পরিবারকে চিঠি লিখে সমবেদনা জানান তিনি। এটাই তাঁর নেশা।

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন কার্গিলের শহিদের মেয়ে

গুজরাতের সুরাতের বাসিন্দা তিনি। পেশায় প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড । কার্গিল যুদ্ধের পর থেকে এই অদ্ভুত কাজ করেন তিনি। ১৯৯৯ থেকে আজ পর্যন্ত শহিদদের পরিবারকে মোট ৪০০০ চিঠি লিখেছেন জিতেন্দ্র। তাঁর কাছে রয়েছে ৩৮০০০ শহিদ জওয়ানের ঠিকানা। এইসব পরিবারের সন্তান, ভাই কিংবা বাবা যেভাবে দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাকে সম্মান জানাতেই সবার চোখের আড়ালে এই কাজ করে চলেছেন তিনি।

- Advertisement -

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন কার্গিলের শহিদের মেয়ে

রাজস্থানের ভরতপুরের কুতখেদা গ্রামে জন্ম জিতেন্দ্রর। তাঁর পূর্বপুরুষেরা সেনাবাহিনীতেই ছিলেন। তাঁরও স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া। কিন্তু সেটা হয়নি। সেই বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে তাঁর পরিবার সেনার সঙ্গে যুক্ত। কার্গিল যুদ্ধের সময় তাঁর বাবা মাহার রেজিমেন্টে ছিলেন। জিতেন্দ্র জানান, ‘বাবা এসে বলেছিলেন তাঁর রেজিমেন্টের জওয়ান শহিদ হয়েছেন।’ এরপরেই চিঠি লেখার সিদ্ধান্ত নেন জিতেন্দ্র।

আরও পড়ুন: গর্ভবতী স্ত্রীকে দেখতে যাওয়ার ছুটি মিলেছিল! তার আগেই শহিদ হলেন বীর জওয়ান

গত ১৮ বছর ধরে চিঠি লিখে চলেছেন জিতেন্দ্র। ৩৮০০০ শহিদ জওয়ানের সম্পর্কে সব তথ্য রয়েছে তাঁর কাছে। এদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক এক করে চিঠি লিখবেন তিনি। যখন ১৫ পয়সায় পোস্টকার্ড পাওয়া যেত, তখন থেকে চিঠি লেখেন। বেতন পান ১০,৪০০ টাকা। মাইনে যতই কম হোক পোস্টকার্ড কিনতে কখনও ভোলেননা তিনি। শহিদদের ঠিকানা পেতে আর্মি হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন জিতেন্দ্র। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এভাবে ঠিকানা দেওয়া সম্ভব নয়। অগত্যা খবরের কাগজ জোগাড় করেই সেই ঠিকানা সংগ্রহ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি শুধু তাদের এটুকুই বলতে চাই, গুজরাত একজন আছে যে তাদের কথা মনে রাখে।’

আরও পড়ুন: ‘আমাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে’, অভিযোগ কার্গিলের শহিদের মেয়ের

তবে সেসব চিঠির উত্তর পান না তিনি। না, তাতে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই। কারণ তিই জানেন পরিবারের একজন সদস্য শহিদ হলে তাদের কি অবস্থা হয়। তবে কারও কারও ফোন নম্বর রয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখেন জিতেন্দ্র।

ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুরাতে থাকেন তিনি। নবম শ্রেণির ছাত্র তাঁর ছেলের নাম হরদীপ সিং। কাশ্মীরের কারনালের শহিদ জওয়ান হরদীপের নামেই নাম রেখেছেন ছেলের।

All rights reserved by @ Kolkata24x7 II প্রতিবেদনের কোন অংশ অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
-