পূজা মণ্ডল, কলকাতা: আজব শহর এই কলকাতা। কত না রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এই শহরের আনাচে-কানাচে। এমনই এক গল্প লুকিয়ে আছে জাকারিয়া স্ট্রিটের বুকে।

মধ্য কলকাতার বুকে জাকারিয়া স্ট্রিট। সেখানেই রয়েছে রাজ্যের সবথেকে পুরনো লাইব্রেরি। রাজ্যে উর্দু ভাষার বইয়ের সংগ্রহ নিয়ে যে সমস্ত লাইব্রেরি রয়েছে, তাদের মধ্যেও সবচেয়ে পুরনো মহম্মদ আলি লাইব্রেরি। কিন্তু এই বিশেষত্বের থেকেও আরও বড় ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে এই লাইব্রেরির কড়ি-বরগায়! চুন সুরকিতে!

ইতিহাস বলছে, স্বাধীনতা সংগ্রামের ছক কষতেই নাকি এই লাইব্রেরি তৈরি করার পরিকল্পনা মাথায় আনেন সংগঠকরা। তখনকার দিনে দেশ-বিদেশের খবরা-খবর পাওয়ার একমাত্র রাস্তা ছিল সংবাদপত্র। তাই নানান প্রকারের সংবাদপত্র একসঙ্গে হাতের কাছে পেতেই স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারকরা পরিকল্পনা করেছিলেন এই লাইব্রেরির। এই সংগ্রামীরা যেহেতু স্বাধীনতা সংগ্রামী মৌলানা মহম্মদ আলি জওহরের অনুগামী ছিলেন তাই তাঁর অনুসারেই এই লাইব্রেরির নামকরণ হয় মহম্মদ আলি লাইব্রেরী।

অর্থাৎ এই লাইব্রেরির ইতিহাস জড়িত সেই খিলাফত আন্দোলনের (১৯১৯)সঙ্গে, যা কিনা ভারতীয় মুসলিম আন্দোলন নামেও পরিচিত।এমনটাই জানাচ্ছেন লাইব্রেরির পরিচালন সমিতির অন্যতম সদস্য তথা সুরেন্দ্র নাথ কলেজের উর্দু ভাষার অধ্যাপক ডা. নুসরত জাহান। তাঁর কথায় এই লাইব্রেরি তৈরি হয়েছে ১৯৩০ সালে। অর্থাৎ বর্তমানে এই লাইব্রেরির বয়স ৮৯ বছর।

সংবাদপত্র দিয়ে শুরু হয়ে এখন প্রায় ১৬,০০০ বই রয়েছে লাইব্রেরিতে। বাংলা ভাষা ছাড়াও আরও বেশ কিছু ভাষার বই রয়েছে লাইব্রেরিতে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে উর্দু ভাষার বই। যা ইন্টারনেটে কেন, মিলবে না ন্যাশনাল লাইব্রেরিতেও।

গুটি কতক সদস্য দিয়ে শুরু করে এখন রাজ্য জুড়ে এই লাইব্রেরির সদস্য সংখ্যা ৩০০ জন। এঁরাই জোগাড় করেন লাইব্রেরি পরিচালনার অর্থ। এনাদের জোগানেই লাইব্রেরির ভাঁড়ারে আজ ১৬,০০০ বই। সন্ধ্যে ৬ টা থেকে শুরু করে লাইব্রেরি খোলা থাকে রাত ৯ টা পর্যন্ত। আশেপাশের লোকজন ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে রিসার্চ স্কলাররা আসেন উর্দু ভাষার রসদ সংগ্রহে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে ইন্ধন যোগাতে তৈরি হওয়া লাইব্রেরি বর্তমানে রসদ যোগাচ্ছে গবেষণার। এমনটাই চান লাইব্রেরির সবচেয়ে পুরনো সদস্য তথা লাইব্রেরির ভারপ্রাপ্ত প্রধান মহম্মদ খলিল সাহেব। এমনটাই চান লাইব্রেরিয়ান হাফিজুর রহমান। তাই আজ পর্যন্ত সরকারি সাহায্য পেতে হাত বাড়াননি তাঁরা। তাঁদের ভাবনায় এই লাইব্রেরি হয়ে উঠুক আগামীর গবেষণাশালা।