কত ছোট ছোট কষ্টে আমরা ভাবি, বোধ হয় জীবনটাই শেষ। আর হয়ত ঘুরে দাঁড়ানো যাবে না, এক পা এগোনোর ক্ষমতা চলে যায়। কিন্তু কেউ যদি নিজের একটা পা খুইয়েও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি ফিরে পেতে পারে তাহলে এসব কষ্ট হয়ত তুচ্ছ মনে হবে। এমনই একজন মেজর ডিপি সিং। কার্গিলের যুদ্ধক্ষেত্রে আহত হওয়ার পর যখন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন চিকিৎসকেরা বলেছিলেন তিনি মৃত। কপাল জোরে বেঁচে যান তিনি। আর তিনি দেশের প্রথম ‘ব্লেড রানার’।

জানা যায়, ১৯৯৯-এর সেই ভয়াবহ যুদ্ধে আর্মি অফিসার মেজর ডিপি-এর পাশেই ফেটে যায় একটি শেল। দেহটা প্রায় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তাঁর দিকে তাকিয়েই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিন্তু, একজন চিকিৎসক হাল ছাড়তে রাজি হননি। ঘটে যায় মিরাকল। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন তিনি। অনেক সার্জারি হয় তাঁর শরীরে। বাঁচানো গেলেও তাঁর পা কেটে বাদ দিতে হয়। যে কোনও সাধারণ মানুষ এমন একটি ঘটনায় ভেঙে পড়তে পারতেন। জীবনটা হয়ত কেটে যেত হুইল চেয়ারেই। কিন্তু, তিনি সাধারণ নন। তাই হুইল চেয়ার তো দূরের কথা। বাকি জীবনটার জন্য মাঠের ট্র্যাকই বেছে নেন ডিপি সিং।

তিনি বলেন, এ ঘটনাকে তাঁর কাছে দুর্ভাগ্য নয়, বরং দেশরক্ষা করতে গিয়ে অঙ্গহানি হওয়ায় গর্ব বোধ করেন তিনি। ঘটনার এক বছর ২ মাস বাদে একটু একটু করে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটে শুরু করেন তিনি। লাগানো হয় কৃত্রিম পা। আর বছর দশেক বাদে তাঁকে দেখা যায় দিল্লির হাফ ম্যারাথনে দৌড়তে। এরপর থেকে ১৪টি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন তিনি। চতুর্থ ম্যারাথনে পায়ে ব্লেড লাগান তিনি। দেশের প্রথম ব্লেড রানার হয়ে ওঠেন ডিপি সিং।

এরপর তিনি এই ধরনের প্রতিবন্ধীদের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন। যাতে, প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে ও তাদের বাবা-মায়েরা এক জায়গায় এসে একে অপরকে জীবনে এগিয়ে চলার জন্য উৎসাহিত করতে পারে। সব ভয় কাটিয়ে ঘুরে-দাঁড়াতে পারে। কিভাবে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবে, সেই বিষয়েও আলোচনা হয় Challenging Ones নামে ওই গ্রুপে। তাঁর নিজের গল্প বলে, ভিডিও দেখিয়ে প্রতিবন্ধীদের স্বাভাবিক জীবনের পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন ডিপি সিং। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও এই কাজ করেন তিনি। সাঁতার, ব্যাডমিন্টনের মত ক্রীড়ার উদ্যোগ নেন তিনি। ডিপি সিং চান প্রতিবন্ধীদের এগিয়ে চলার জন্য আরও বেশি প্রচার হোক দেশ জুড়ে।