সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘কার বাড়ি ঘর অক্ষত আমায় তুমি নিয়ে চল।’ বস্তি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ার পর মাথায় ছাদ তো নেই ওঁদের। সঙ্গে হারিয়েছে অনেক কিছু। যার মাথায় ছাদটাও নেই তার কাছে সুরক্ষা তো অনেক বড় প্রশ্ন। বাগবাজারের পুড়ে যাওয়া বস্তির মেয়েদের আত্মরক্ষা পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে এগিয়ে এলেন ক্যারাটে প্রশিক্ষক।

বাগবাজারের পুড়ে যাওয়া বস্তির বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকেই আছে কম বয়সী মেয়েরা। মাথার ওপর ছাদ নেই। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল তারা। তাদের মনোবল বাড়াতে আত্মরক্ষার পার্টস দিতে এগিয়ে এলেন এক ক্যারাটে প্রশিক্ষক। জাপানি ক্যারাটের ভারতীয় স্থপতি পরশ কুমার মিশ্র। তিনি জানিয়েছেন ‘যুদ্ধ নয়, আত্মরক্ষার হাতিয়ার হোক ক্যারাটে।’ তাঁকে এই কাজ করতে সাহায্য করেছে সংবেদন নামে একটি সংস্থা। ওই সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ক্যরাটে প্রশিক্ষক। এবার যারা শিক্ষা নিচ্ছেন তাঁরা কি জানাচ্ছেন? ওঁরা স্বাভাবিকভাবেই খুশি। কেউ জানালেন , ‘আমাদের জন্য কেউ এভাবে ভাববে সেটা ভাবিনি। তাই ভালো লাগছে।’ ঘোর পোড়া এক বাচ্চা মেয়ে জানাল, ‘ক্যারাটে শুনেছিলাম, কিন্তু সেটা কেমন করে করতে হয় বা কেন শেখার দরকার আছে তা জানতাম না। এখানে এসে সেই শিক্ষা পাচ্ছি। একটা খারাপ সময় যাচ্ছে আমাদের। তার মাঝে এমন শিক্ষা আমাদের সবার বেশ ভালোই লাগছে’

নতুন বছরের প্রথম মাসেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে কলকাতায়। ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাগবাজারে ব্রিজের কাছে বস্তিতে বিধ্বংসী আগুন লাগে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকলের কমপক্ষে ২৭টি ইঞ্জিন। আতঙ্ক বাড়িয়ে আশপাশের এলাকাতেও দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাখানেক পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নেভাতে গিয়ে তিন জন দমকলকর্মী আহত হন। খবর পেয়ে গঙ্গাসাগর থেকে দ্রুত বাগবাজারের যান পুর প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের চারটি কমিউনিটি হলে রাখার ব্যবস্থা করা করেন পুরমন্ত্রী।

ওইদিন সন্ধ্যায় বাগবাজারের এই বস্তিতে আচমকা আগুন লাগে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গিয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল। আগুনের লেলিহান শিখায় বস্তিটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের জেরে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিধ্বংসী এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে ১২২ বছরের স্বামী বিবেকানন্দর প্রতিষ্ঠিত ‘উদ্বোধন’ পত্রিকার অফিস পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। স্বামী অভিন্নানন্দ নামে এক মহারাজ জানান, ‘উদ্বোধন ভবনের চারতলায় ১৫ জন সন্ন্যাসী ও ১৫ কর্মী থাকতেন। সবাইকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু, উদ্বোধন প্রকাশনার পুস্তকের ভান্ডার প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এরফলে ১২২ বছরের প্রাচীন পুস্তক সংখ্যা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে’।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।