দেশ জুড়ে চলছে উৎসবের মরশুম। দুর্গা পুজো, লক্ষীপুজো কালীপুজো, ছট পুজো এবং জগদ্বাত্রী পুজো। সব মিলিয়ে উৎসব প্রিয় মানুষের উৎসবের মরশুম এখুনি শেষ হয়ে যাচ্ছে না।

আর উৎসব মানেই ঘোরাফেরা তো আছেই সঙ্গে জোর খাওয়াদাওয়া অনিবার্য। কিন্তু অত্যাধিক ওজন বৃদ্ধি, ব্লাডসুগার এবং অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতার কারনে যারা উৎসবের দিনগুলিতে মিষ্টিমুখ, পছন্দের রসনা থেকে বহুদূরে থাকেন। তাঁদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। এবার আর মিষ্টি দেখে চোখ বন্ধ করে থাকতে হবেনা আপনাকে। মিষ্টি খাবেন অথচ ব্লাড সুগার একদমই বাড়বে না আপনার। তার জন্যই আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদন।

উৎসবের দিনগুলিতে যারা ব্লাডসুগার এবং ওজন বৃদ্ধির কারনে জিলাপি, বরফি, ঘি-জাতীয় খাবার সহ লাড্ডু, গোলাপ জামুন এড়িয়ে চলেন তাঁদের জন্য রয়েছে ভালো খবর। চটজলদি কিছু নিয়ম মেনে চলুন দেখবেন ব্লাডসুগার উৎসবের মরশুমে আপনার কপালে ভাঁজ ফেলতে পারছে না। শুধু টিপস মেনে চললেই হবেনা। সঙ্গে থাকতে হবে নিয়ম মেনে পরিমিত খাবার খাওয়া এবং সঙ্গে চলবে নিয়মিত ব্যায়াম। তাহলেই সুগার থাকবে আপনার নিয়ন্ত্রনে। তাহলে দেখে নেওয়া যাক আজকের টিপসগুলি কী। শুধু উৎসবের মরশুমেই নয়। বছরের অন্য সময়েও আপনার কাজে দেবে এই টিপস ।

১. ডায়াবেটিস রোগীদের সবথকে বড় শত্রু হল দুধ। দুধে প্রচুর পরিমানে হাইপ্রোটিন থাকায় এই পানীয় যেমন হাড়ের বৃদ্ধি, হাড় মজবুত এবং দৈহিক বিকাশে সাহায্য করে । তেমনই সুগারের রোগীদের দুধপান করা বা দুধ দিয়ে তৈরি যেকোনও খাবার এড়িয়ে চলা অত্যান্ত জরুরী। কারন রক্তে ইনসুলিনের ক্ষেত্রে এই দুধ অত্যান্ত ক্ষতিকারক। সুতরাং, বলা যেতে পারে মিষ্টি তৈরির ক্ষেত্রে আমরা যারা ব্লাড সুগারের রোগী তাঁদের অবশ্যই রান্নায় দুধ এড়িয়ে চলা উচিত। শুধু তাই নয় দুধের বিকল্প হিসাবে অন্য কিছুও ব্যবহার করা যেতে পারে। তাহলে দেখা যাবে ডায়েটের প্রথম ধাপেই আমরা ব্লাড সুগার অনেকটাই নিয়ন্ত্রন করতে পারছি।

২. দুধ খাওয়া যাবেনা বলে অনেকেই ভাবতে পারেন যে তাহলে মিষ্টি খাবো কি করে। কারন সব মিষ্টিই তো দুধ দিয়েই তৈরি হয়। এই নিয়ে একদম দুশ্চিন্তা করে শরীর খারাপ করতে যাবেন না। দুধ খাওয়া বারন তাতে কি আছে। দুধ ছাড়াও আরও অনেক উপাদান আছে যেগুলি দিয়ে সহজেই বাড়িতে বসে মিষ্টি বানানো যাবে। যেমন ধরুন, বিকল্প হিসাবে আপনি বেছে নিতে পারেন, প্রাকৃতিক মধু, নারকেলের মাখন, গুড়, নারকেলের চিনি প্রভৃতি।

৩. দুধের বিকল্প হিসাবে মিষ্টি তৈরিতে আপনি এগুলিও ব্যবহার করে দেখতে পারেন। যেমন ধরুন- অ্যালমণ্ড, সয়াদুধ বা নারকেলের দুধ অথবা বাদাম দুধও ব্যবহার করে দেখতে পারেন। তাতে নতুন মিষ্টির স্বাদের বদল কতটা হল।

৪. যদিও এইসমস্ত খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত আপনাকে সুগারের লেভেল চেক করে দেখে নিতে হবে। আর হ্যাঁ এটা নিয়মিত চেক করা অবশ্যই জরুরী। কারন না হলে আপনি বুঝতে পারবেননা যে খাবার গুলি আপনি রোজ গ্রহন করছেন, সেগুলি আপনার শরীরের ব্লাড সুগারে কতটা প্রভাব ফেলছে।

সুতরাং চটজলদি মেনে চলুন এই নিয়ম গুলি। আর উৎসবের দিনে পরিবার পরিজনের সঙ্গে হয়ে উঠুন আরও চনমনে প্রানবন্ত।