নদিয়া জেলার মাজদিয়ার তিন কিমি দূরে শিবনিবাস গ্রাম৷ এই গ্রামেই রয়েছে পূর্ব ভারতে সবচেয়ে বড় কালো পাথরের শিবলিঙ্গ৷ শিবরাত্রি উপলক্ষে এখন সেজে উঠছে মন্দির চত্ত্বর। মেলা বসছে। তৈরি হচ্ছে দোকান পাট। অগনিত ভক্তের ভিড় সকাল থেকেই৷

রাজ্যের প্রসিদ্ধ শিব মন্দিরগুলির মধ্যে রয়েছে মাজদিয়ার রাজ রাজেশ্বর মন্দির৷ নদীর ঘাট থেকেই নজরে পড়ে সুউচ্চ মন্দিরের চুড়ো। শোনা যায়,কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে মাজদিয়ায় সরিয়ে আনেন৷ শিবের নামে নামকরণ করেন শিবনিবাস৷ এখানে তিনি এক সুন্দর রাজপ্রাসাদ ও কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ তারমধ্যে তিনটি মন্দির এখনও অবশিষ্ট হয়েছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে পুরোনো মন্দিরটি হল রাজরাজেশ্বর শিবমন্দির।বাকি সব ধ্বংস, যার চিহ্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে শিবনিবাসে।

১৬৭৬ শকাব্দ তথা ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় মন্দিরটি৷ লোকমুখে বুড়ো শিবের মন্দির বলে খ্যাত। চুড়ো সমেত এই মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট, আটকোনা মন্দির, প্রতিটি কোনায় মিনার ধরনের সরু থাম। এক ঝলক দেখলে গির্জা বলে মনে হয়। মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি, বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়। পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই। পথের ডান দিকে যা মন্দির, সেটির নির্মাণ ১৭৬২-তে। বর্গাকার প্রস্থচ্ছেদের মন্দির। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের দ্বিতীয় মহিষীর প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরের ‘রাজ্ঞীশ্বর’ সাড়ে ৭ ফুট উঁচু। পথের বাঁ দিকে রামসীতা মন্দির। পশ্চিমমুখী চার চালা মন্দির। শিখরে ৪টি মিনার।

বর্গীদের হাত থেকে রাজধানীকে রক্ষা করতে কৃষ্ণচন্দ্র খাল কেটেছিলেন। সেই খাল জুড়েছে দুই নদী, ইছামতী ও চূর্ণিকে। ওই খাল হল এখনকার কংকনা নদী, যে নদী পেরিয়ে শিবনিবাসে পৌঁছতে হবে। ১০৮ শিবের বসত ছিল এই শিবনিবাস। লোকে বলত, “শিবনিবাস তুল্য কাশী, ধন্য নদী কংকনা”।

কিভাবে যাবেন?
শিয়ালদহ থেকে গেদে প্যাসেঞ্জারে কৃষ্ণনগর পেরিয়ে তারকনগর হল্ট। সেখান থেকে রিকশায় শিবনিবাস।

এছাড়া, কৃষ্ণনগর থেকে কৃষ্ণগঞ্জ হয়ে সড়কপথে শোনঘাটা। শোনঘাটা পেরোতেই ডান দিকে নজরে পড়বে যাত্রীছাউনি, ‘বাসযাত্রী বিশ্রামাবাস, শিবনিবাস’। ডান দিকের পথ ধরে চলে যান নদীর পারে। নৌকা থাকবে ঘাটে। নিয়মিত চলছে পারাপার। নদী পেরিয়ে চলে যান শিবনিবাসে।

এই শিবলিঙ্গের প্রাচীনত্ব নিয়ে ইতিহাসবিদদের মনে কোনও দ্বিমত নেই। তবে ঠিক কত বছরের প্রাচীন তা নিয়ে প্রামান্য কোনও তথ্য নেই।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ