বিপ্লব, আন্দোলন, কমিউনিজমের মুখ ফিদেল কাস্ত্রো। ১৬ ফেব্রুয়ারি, আজকের দিনেই কিউবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ  নিয়েছিলেন কাস্ত্রো। গেরিলা যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ‘আমেরিকার পুতুল’ বাতিস্তা সরকারের পতন হয়। কিউবার ক্ষমতায় এসেছিল ফিদেলের দল।
প্রথমে ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত কাস্ত্রো কিউবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে ১৯৭৬ সাল থেকেই ২০০৮ সাল পর্যন্ত একটানা কিউবার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব সামলেছেন। এরপর সরে দাঁড়িয়ে ভাই রাউল কাস্ত্রোকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।
তাঁর ৪৯ বছরের ক্ষমতায় ১০ জন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে শপথ নিয়েছেন। ফিদেলকে সরাতে পারেননি কেউই। ফিদেলের অবসরের পরও কিউবা শাসন করছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত কমিউনিস্ট পার্টি।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দুনিয়ায় যে সব কমিউনিস্ট নেতা বিশ্ব রাজনীতিতে প্রবলভাবে আলোচিত ফিদেল তাঁদের অগ্রগণ্য। ১৯২৬ সালের ১৩ অগস্ট কিউবার এক ব্যবসায়ী পরিবারে ফিদেলের জন্ম। ২১ বছর বয়সেই বামপন্থী রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ‘আমেরিকার পুতুল’ বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটিয়ে কিউবার ক্ষমতায় আসে ফিদেলের দল। এই বিপ্লবে ফিদেলের প্রধান সহযোগী ছিলেন আর এক কিংবদন্তী চে গেভারা।
হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ার সময়, ফিদেল কাস্ত্রো তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। এরপর কিউবার রাজনীতিতে একজন বিখ্যাত ব্যক্তিতে পরিণত হন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় প্রেসিডেন্ট ফালজেন্সিও বাতিস্তা এবং কিউবার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী সমালোচনা নিবন্ধ লিখে। তিনি এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন। অবশেষে তিনি ১৯৫৩ সালে মনকাডা ব্যারাকে একটি ব্যর্থ আক্রমণ করেন, এবং তারপর কারারুদ্ধ হন ও পরে ছাড়া পান। এরপর তিনি বাতিস্তার সরকার উৎখাতের জন্য সংগঠিত হওয়ার জন্য মেক্সিকো যান। ফিরে এসে ১৯৫৬’র ডিসেম্বরে সরকার উৎখাতে নামেন।
পরবর্তীকালে কাস্ত্রো কিউবান বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন যা যুক্তরাষ্ট্রের মদতে চলা বাতিস্তার স্বৈরশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর কিছুদিন পরই পর কাস্ত্রো কিউবার প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৬৫ সালে তিনি কিউবা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হন এবং কিউবাকে একদলীয় সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে রূপ দেন। ১৯৭৬ সালে তিনি রাষ্ট্র ও মন্ত্রী পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি কিউবার সর্বোচ্চ সামরিক পদ ‘Commander in Chief’ এও আসীন হন।
২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর মৃত্যু হয় কিউবার রাষ্ট্রনায়কের।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.