তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার আলু ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সিমলাপালে এই প্রথমবার আলুর বীজ তৈরির উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। এতদিন এই এলাকার চাষিরা মূলত পাঞ্জাব থেকে আসা বিভিন্ন জাতের আলু বীজ চাষের কাজে ব্যবহার করতেন। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে আর অন্য রাজ্য থেকে আসা আলু বীজের উপর নির্ভর করতে হবে না জেলার আলু চাষিদের। সিমলাপালে উৎপাদিত আলু বীজ ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে উদ্বৃত্ত আলু বীজ রাজ্যের বিভিন্ন অংশে পাঠানো হবে। এই কাজ সফল হলে অনেক কম দামে জেলা ও রাজ্যের চাষিরা আলু বীজ হাতে পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বাঁকুড়া জেলার বাইশটি ব্লকের মধ্যে সব থেকে বেশী আলু উৎপাদিত হয় সিমলাপালে। এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের উপযুক্ত। অত্যধিক ফলন ও বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে অনেক সময় চাষিরা ঠিক মতো দাম পাচ্ছিলেন না। ফলে অনেক চাষিই আলু চাষে উৎসাহ হারাচ্ছিলেন। সেই পরিস্থিতে রাজ্যের এই উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসনীয় বলে অনেকে মনে করছেন।

সূত্রের খবর, আপাতত সিমলাপালের বিক্রমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একশো বিঘা জমিতে আলু বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি বেসরকারি সংস্থা এই কাজে রাজ্য সরকার এবং চাষিদের সংযোগ রক্ষা ও সহায়তার কাজ করবে। রাজ্য বীজ নিগমের ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশিস বটব্যাল নিজে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সিমলাপাল ডেভেলপম্যান্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান অনুপ পাত্রকে সঙ্গে নিয়ে কুমারডোবা ও পাথরকাটা মৌজা পরিদর্শন করেছেন। কথা বলেছেন এই এলাকার চাষিদের সঙ্গেও। এই দুই এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে আলুবীজ তৈরির কাজ সফল হলে আগামী দিনে সিমলাপালের আরও বেশ কয়েকটি মৌজাকে এই কাজে যুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

আলু চাষি অরুণ মিশ্র, দীপাঞ্জন সিংহমহাপাত্ররা বলেন, এতো দিন আমাদের পাঞ্জাবের আলু বীজের উপর নির্ভর করে থাকতে হতো। উচ্চমূল্য দিয়ে সেই বীজ কিনে ফলন কেমন হবে তার কোন নিশ্চয়তা ছিলনা। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে জেলার চাষিরা যেমন অনেক কম দামে আলুর বীজ পাবেন তেমনি আমরাও বাড়তি কিছু রোজগারের সুযোগ পাবো।

আলু বীজ নিগমের ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশিস বটব্যাল এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের রাজ্যের কৃষক আলু উৎপাদনে সফল হলেও আলুর বীজ উৎপাদন করতে পারেন না। পাঞ্জাব থেকে প্রতি বছর পাঁচ হাজার কোটি টাকার বীজ আমাদের রাজ্যে আনতে হয়। রাজ্য বীজ নিগমের মাধ্যমে সিমলাপালে চাষিদের নিয়ে আলুর বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।এই প্রচেষ্টা সফল হলে আমাদের অন্য রাজ্য থেকে বীজ আনতে হবেনা। আলু চাষের খরচ কমবে ও চাষিরা বীজ উৎপাদন করে লাভবান হবেন।

সিমলাপাল ডেভলাপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান অনুপ পাত্র বলেন, চাষিদের আলুর চাষে ধারাবাহিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সিমলাপাল এগ্রোপ্রোডিউসার কোম্পানি লিমিটেড এর মাধ্যমে আমরা খাবার আলুর বদলে আলুবীজ উৎপাদনে জোর দিয়েছি। এর ফলে চাষিরা আগামীদিনে কম
খরচে আলু চাষ করতে পারবেন।