আইএসএলে প্রথমবার৷ পেশাদার ফুটবলের মোড়কে মোহন-ইস্ট৷ আইএসএলের সপ্তম সংস্করণের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখেমুখি হয়েছিল এটিকে-মোহনবাগান ও কেরালা ব্লাস্টার্স৷ ম্যাচের পর চুলচেরা বিশ্লেষণ৷ কলকাতা ২৪x৭-এ কলম ধরলেন আইএসএলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার মেহতাব হোসেন

কিবু ভিকুনা যে দর্শনে এদিন তাঁর দলকে ফুটবলটা খেলালেন তাতে রক্ষণাত্মক মনোভাবাপন্ন কোনও দলকে হারানো সম্ভব নয়। এটিকে-মোহনবাগানের মতো রক্ষণাত্মক দলকে তো নয়ই। ফতোরদা ছাড়া গোয়ার অন্যান্য মাঠগুলো প্রমাণ সাইজের নয়। আজ যে মাঠে খেলা হল (জিএমসি, ব্যাম্বোলিম) সেটা আয়তনে অনেকটা ছোট। এমন ছোট মাঠে পেনিট্রেটিভ জোনে গিয়ে তোমাকে অনেক বেশি মুভ করতে হবে, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া করে মাঠটাকে বড় করে নিতে হবে। সেটা এদিন কেরালা ব্লাস্টার্সের খেলায় একেবারেই দেখা গেল না। কেবল মাঝমাঠেই এদিন খেলে গেল কেরালা ব্লাস্টার্স।

সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় গোল লক্ষ্য করে কেরালা ব্লাস্টার্স ফুটবলারদের কোনও শট নিতে দেখলাম না। না উইং থেকে ভেসে এল কোনও সেন্টার। এইসব বিষয়গুলো পরবর্তী ম্যাচে নামার আগে ভাবাবে কিবু ভিকুনাকে। এবার আসি কেরালা ব্লাস্টার্সের গোল হজম করার বিষয়টিতে। ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে বলটা থেকে রয় কৃষ্ণা গোল করল সেই বলটা সিডোঞ্চা ক্লিয়ার নয় বরং হেডে নামাতে গিয়েছিল। বক্সের মধ্যে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ফুটবল বোধহয় বার্সেলোনাও খেলে না। সিডোর (সিডোঞ্চা) মতো একজন অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার যে জানে রয় কৃষ্ণা বক্সে কতটা ভয়ংকর, তাঁর থেকে এমন ভুল আশা করা যায় না।

ছোট্ট একটা ভুলেরই খেসারত এদিন দিতে হল কিবুর দলকে। তবে রয় কৃষ্ণার কৃতিত্ব এখানে দিতেই হবে। সারাক্ষণ ওত পেতে ছিল ও। বিপক্ষ একটা ভুল করল আর কৃষ্ণা গোল করে বেরিয়ে গেল। তবে ম্যাচ হারলেও এই ম্যাচ থেকে কেরালার পাওনা অবশ্যই দু’জন ডিফেন্ডার। কোস্তা এবং বাকারি কোনে এককথায় অনবদ্য। কোনও তাড়াহুড়ো নেই, ঠান্ডা মাথায় ম্যাচটা খেলল। যেখানে প্রয়োজন সেখানেই একমাত্র ট্যাকলে গেল। গোলের ক্ষেত্রে ওদেরকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ ওইরকম পরিস্থিতিতে দু’জনের একজনও ভাবতে পারেনি সিডোঞ্চা বলটা নামিয়ে দেবে। তবে রয় কৃষ্ণার ফিনিশটা এক্ষেত্রে বলতেই হবে একজন টিপিক্যাল স্ট্রাইকারের ফিনিশ।

আর কৃষ্ণা বাদে এটিকে-মোহনবাগানকে নিয়ে আলাদা করে যদি বলতে হয় তাহলে বলব গত মরশুমে ওরা যেখানে শেষ করেছিল সেখান থেকেই শুরু করল। কারণ অবশ্যই ডিফেন্স অর্গানাইজেশন। কেরালা ব্লাস্টার্স তুলনায় অনেক বেশি সেটপিস আদায় করেছিল। কিন্তু ভেসে আসা বলে প্রতিপক্ষকে সেভাবে মাথা ছোঁয়াতে দেয়নি এটিকে-মোহনবাগান ডিফেন্ডাররা। কেরালা ব্লাস্টার্সের ফুটবলারদের উচ্চতা ভালো থাকা সত্ত্বেও সুবিধা করতে পারেনি ওরা। এক্ষেত্রে বলে রাখি কেরালার আপফ্রন্টে কিছুটা হতাশ করল গ্যারি হুপার। সেল্টিকের মতো ক্লাবে খেলে আসা ফুটবলারের দক্ষতা নিয়ে তো প্রশ্নের অবকাশ থাকতে পারে না। কিন্তু নতুন দেশে এসে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। সামগ্রিকভাবে দল হিসেবে কেরালা মোটেই খারাপ নয়।

কিন্তু যে পদ্ধতিতে ওরা ফুটবল খেলছে তাতে ধাতস্থ হতে সময় লাগবে। এক্ষেত্রে ওদেরকে একটি ক্ষেত্রে ‘আনলাকি’ও বলা যায়। ঋত্বিক দাস সুবর্ণ সুযোগ মিস করেছে। সাহালের কাছেও একটি ক্ষেত্রে সুযোগ এসেছিল, ও বলটা রিসিভ না করেই সাইড ভলি মারতে গেল। নাংদম্বা নাওরেম বেশ নজর কেড়েছে। সবমিলিয়ে বলা যায় কিবুর স্টাইল ফুটবলারদের আয়ত্তে এলে বেগ দেবে কেরালা ব্লাস্টার্স।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।