মুম্বই- মানুষের অসুখ কোনো আগাম বার্তা দিয়ে আসে না। সমস্ত কিছু যখন স্বাভাবিক চলছে তখনই হয়তো মারাত্মক কোনো অসুখ জীবনে অশান্তি ডেকে আনতে পারে। ঠিক এমনই হয়েছে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের জীবনে। সম্প্রতি জানতে পেরেছেন তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত।

সঞ্জয় দত্ত অপেক্ষা করেছিলেন কবে এই করোনা আবহের ইতি হবে আর তারপরই ফের ছবির শুটিংয়ে যোগ দেবেন। তাঁর হাতে ছিল ভূজ, পৃথ্বীরাজ, শমশেরা, কেজিএফ ২ এই ছবিগুলি।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত শনিবার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় সঞ্জয় দত্তের এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। তিনি ভেবেছিলেন তিনি হয়তো কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন কারণ অক্সিমিটারে পরীক্ষা করে দেখে ছিলেন যে তার শরীরে অক্সিজেন লেভেল অনেকটা কমে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সঞ্জয়কে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে আসতে বলা হয় যাতে সেখানে কোভিড ১৯ এর পরীক্ষা করা যায়।

তখন তিনি জানান যে তিনি ইতিমধ্যেই পরীক্ষা করিয়েছেন এবং তাঁর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। কিন্তু তবুও তাঁর মনে হচ্ছিল যে তিনি হয়ত কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। সঞ্জয়ের সঙ্গে সেদিন ছিলেন তাঁর বোন প্রিয়া দত্ত এবং একজন বন্ধু।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দেখা যায় যে তাঁর ডান দিকের ফুসফুসে হাওয়া ঠিকমতো প্রবেশ করছে না। এরপর সিটি স্ক্যান এর মাধ্যমে ধরা পড়ে যে তাঁর ডান দিকের ফুসফুসে জল জমেছে। তখন সঞ্জয়কে বলা হয় ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, টিউবরকুলোসিস, অথবা তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত।

এরপরে তাঁর ফুসফুস থেকে জল বের করা হয়। তার পরিমাণ ছিল প্রায় ১.৫ লিটার। জানা যায় এরপর বহু প্রশ্ন করছিলেন সঞ্জয় দত্ত। তাঁকে বলা হয়েছিল যে ফুসফুস থেকে নির্গত হওয়া জল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। সঞ্জয় দত্তের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের কথায়, “অভিনেতাকে এরপর বলা হয় যে তাকে একটি পিইটি স্ক্যান করাতে হবে। সেই স্ক্যান শেষ হওয়ার মুহূর্তে হাসপাতালে হিস্টোপ্যাথলজি ডক্টর দেখতে পায় যে তাঁর ফুসফুস থেকে নির্গত ফ্লুইড ক্যান্সার সেল রয়েছে। অন্যদিকে পিইটি স্ক্যানেও ক্যান্সার ধরা পড়ে।”

সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জন্য একটি কাউন্সেলিং ফ্যাশনের ব্যবস্থা করা হয় যাতে ক্যান্সারের কথা তাঁকে জানানো যায়। এরপরে সঞ্জয়কে একজন অনকোলজিস্ট এর কাছে পাঠানো হয় যিনি অভিনেতাকে বুঝিয়ে বলেন এবার তাঁর কী কী করনীয়।

তাঁকে বলা হয় তিনি চাইলে বিদেশে চিকিৎসা করাতে পারেন। বলা হয় এক্ষেত্রে কোনো রকমের অস্ত্রোপচার করা যাবে না। একমাত্র কেমোথেরাপি এর চিকিৎসা। যেহেতু ক্যানসার স্টেজ ফোর-এ পৌঁছে গিয়েছে তাই চিকিৎসা হবে শুধুমাত্র ওষুধের মাধ্যমে। কেমোথেরাপি নির্দিষ্ট সময় অন্তর তাঁকে দেওয়া হবে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও