তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: চল্লিশ বছরেরও বেশী আগে থেকে অভিনব দোল উৎসবে অংশ নিচ্ছেন বাঁকুড়ার ইন্দাসের আকুই গ্রামের মানুষ৷ এখানে রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহকে সামনে রেখে বা নগর পরিক্রমা করে দোল উৎসব পালিত হয় না৷ এই গ্রামে কালী পুজোর মাধ্যমে দোল উৎসব পালন করা হয়৷ যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘দোল কালী’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে৷

আরও পড়ুন: বসন্তের রঙ মেখে দোলে মেতেছে বাংলা

কীভাবে শুরু হল দোল পূর্ণিমায় এই কালী আরাধনা? তার বিবরণ দিতে গিয়ে পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য সুনীল কোনার বলেন, ‘‘বছর চল্লিশেরও বেশী আগে গ্রামের তৎকালীন যুব সম্প্রদায় দোল পূর্ণিমায় কালী পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন৷ কিন্তু যেদিন দিকে দিকে রাধাকৃষ্ণের দোল উৎসব পালিত হবে, সেদিন কি কালী আরাধনা সম্ভব?’’

তাছাড়া কালী আরাধনা হয় ঘোর অমাবস্যায়৷ পূর্ণিমা তিথিতে কি কালীপুজোর বিধান দেবেন পণ্ডিতরা! এই সমস্ত দোলাচলের মধ্যেই যুব-বৃন্দ ছুটলেন পাশের গ্রামের পণ্ডিতের কাছে৷ তিনি পুঁথি ঘেঁটে বিধান দিলেন, দোল পূর্ণিমাতেও কালী আরাধনা সম্ভব৷ তবে কৃষ্ণকালী রুপে পূজিতা হবেন মা৷ আর বলিদান সম্পূর্ণ নিষেধ৷ শাক্ত-বৈষ্ণব মতে হবে পূজো৷ সেই থেকেই আকুই ইউনিয়ন হাই স্কুল মাঠে শুরু হয়েছে দোল কালীর পুজো৷ দোল পূর্ণিমায় শুরু হয় আগামী চার দিন দোলকালী উৎসবে মাতবেন মানুষ৷ সম্প্রতি উদ্যোক্তা ও গ্রামবাসীদের অর্থ সাহায্যে তৈরি হয়েছে সুদৃশ্য মন্দির৷

আরও পড়ুন: বালুরঘাট জমজমাট রঙের উৎসবে

আকুই গ্রামের দোল কালীর সঙ্গে মথুরার কৃষ্ণকালীর মিল তুলে ধরে এই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত কুমুদ বন্ধু মুখোপাধ্যায় বলেন, পুরাণেই এই কৃষ্ণকালীর বর্ণনা রয়েছে৷ যেখানে দোল পূর্ণিমার দিন শ্রীরাধা কৃষ্ণের আরাধনায় মগ্ন রয়েছন৷ এই খবর কালীর উপাসক আয়ান ঘোষের কাছে পৌঁছতেই তিনি রাগে অগ্নিশর্মা৷ কিন্তু শ্রীরাধার কাছে তিনি পৌঁছে দেখেন কৃষ্ণ তো নয়৷ শ্রীরাধা তো কালীর উপাসনা করছেন৷ শ্রীরাধাকে আয়ান ঘোষের ক্রোধের হাত থেকে মুক্তি দিতে কৃষ্ণের কালী রূপ নেওয়া৷

চার দিনের এই অভিনব দোল উৎসবে অংশ নিতে ইন্দাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে পাত্রসায়র, সোনামুখী, বিষ্ণুপুর সহ পাশের জেলা বর্ধমানে সেহারাবাজার, বোঁয়াইচণ্ডি সহ বেশ কিছু গ্রামের মানুষ এখানে হাজির হন৷ চলে রঙ খেলা, প্রসাদ বিতরণ৷

আরও পড়ুন: রাস্তা সম্প্রসারণে ভাঙা হল পোস্ট অফিস, বিপাকে ৩০ হাজার গ্রাহক