সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তাল , খেঁজুর। আপাত দৃষ্টিতে এগুলি শুধুই কয়েকটি বাংলার ফল। কিন্তু শুধুই কী তাই? ওরা বলছে ‘না’। এগুলি বাংলার ‘ইকোনমিক’ গাছ। সুরক্ষা দেয় সবদিক থেকে। এদের প্রয়োজনীয়তা প্রচুর। তাই ওরা ফের এই গাছ রোপন করতে নেমে পড়েছে। যা গাছ আছে তা আছে। কিন্তু প্রয়োজনও আছে। তাই প্রত্যেক বছরের মতো এই বছরও বর্ষার ঠিক আগে তারা বসাতে শুরু করে দেবে ‘শতমুখী পরিবেশ কল্যাণ কেন্দ্র’।

এই সংগঠনের কাজ মূলত সুন্দরবন জুড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং গ্রামে বর্ষাকালীন তালের আঁটি ও খেঁজুরের পাকা দানা বসানোর কর্মসূচি নেয় তারা। এবছরও তার অন্যথা হয়নি। সংগঠনের পক্ষে জানানো হয়েছে, ‘অন্যান্য বছরগুলির মতো এবারও তাল খেঁজুর গাছ লাগানোর কাজ করা হবে। আসলে এগুলি গ্রাম বাংলার আদি অর্থকারি গাছ। এগুলি যেমন অর্থকরী গাছ তেমনই তাল, খেঁজুর ফল হিসাবেও বাংলায় সমানভাবে জনপ্রিয়। এরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়’কে অনেকটা প্রতিহত করতে সক্ষম।’

সংগঠন জানাচ্ছে, ‘বাংলার প্রাচীন অর্থনীতি এই গাছ গুলোর সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে জড়িত। তাল, খেঁজুরের রস সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে বহরু এবং জয়নগর এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে জনপ্রিয় মোয়া শিল্পকে সামগ্রিকভাবে সহায়তা করে আসছে। তাল দিয়ে বিভিন্ন রকম খাদ্য সামগ্রী এবং খেঁজুর বাংলার ঘরে রসনা তৃপ্তির জনপ্রিয় উপকরণে পরিণত হয়েছে। তাছাড়াও গ্রামেগঞ্জে প্রাচীন কুটির শিল্প, গরমের সময় তালপাখা থেকে শুরু করে ঘর পরিষ্কার করার খেঁজুর গাছের ঝাড়ু আজও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। তাই এই কাজে আমরা নেমে পেরেছি’

সংস্থাটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। প্রায় ২৫ বছর ধরে তারা কাজ করছে। তাদের কাজ মূলত সামাজিক এবং পরিবেশ নিয়ে। সেই কাজ নিয়েই নিজস্ব পরিচিতিও তৈরি করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটি। এদের অন্যতম কাজ বৃক্ষরোপণ। প্রতি বছর সুন্দরবন ও তার বিভিন্ন এলাকা জুড়ে তাল ও খেঁজুরের দানা রোপণ করে । এবারও তার অন্যথা হয়নি।

১৯৭০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। সুন্দরবনের সামগ্রিক উন্নয়নের দাবি নিয়ে পায়ে হেঁটে দিল্লি অভিযান করেছিলেন ডাঃ স্বপন কুমার দাশগুপ্ত, ডাঃ বলীন্দ্র কুমার বৈদ্য ও সমাজকর্মী অরবিন্দ সরকার। স্মারকলিপি পেশ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী সেই ডাকে সারা দিয়েছিলেন। রায়দিঘী আসেন ১৯৭২ সালে। এরপর সুন্দরবনের উন্নয়ন শুরু হয়। গঠিত হয় ‘সুন্দরবন ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’। ‘শতমুখী পরিবেশ কল্যাণ কেন্দ্র’ সেই উন্নয়নের ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.