সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এ রাম সে রাম নয় ? তাহলে ‘কে রাম’ ? এই রাম শুধুই জনতার। রাম নবমী পালন নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। রামের গায়ে রাজনীতির রঙ লেগেছে। বিরোধী বিজেপি’র দেখাদেখি এখন ভোট টানতে শাসক দল তৃণমূল নেতা কর্মীদেরও রাম নাম করতে দেখা যায়। কিন্তু শহরের এক কোনে দাঁড়িয়ে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন রাম মন্দির যেখানে রাজনীতির রঙ লাগেনি।

পুরানে রামের গায়ের রঙ কখনও নীল। রাজনীতির রঙ লেগে এখন সেই রঙ গেরুয়া হয়েছে। এই রঙে আবার ভাগ বসিয়েছে তৃনমূলের ঘাস ফুলের সবুজ রঙ। মধ্য কলকাতার প্রায় ১০০ বছরের পুরনো রাম মন্দির শ্রীরামের গায়ের রঙও সবুজ তবে তা কোনও রাজনৈতিক অং বং ছং নয়। কিন্তু কেন এই সবুজ রঙ কেন তা জানা যায়নি মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে তবে আধ্যাত্মিক গবেষকদের মতে সবুজ সমগ্র প্রকৃতির রঙের ইঙ্গিত দেয়।

জীবনে এই সবুজ রংটি অধ্যাত্ম প্রেরণাদায়ী আসলে পরিবেশের প্রতীক। এটি গাছপালা, শস্য সুশোভিত খেত, পার্বত্য অঞ্চল আচ্ছাদনকারী মধুর রং। সবুজ মনকে শান্তি দেয় এবং হৃদয়কে করে শীতল। মানুষকে সুখ,শান্তি, স্ফূর্তি দেয় এই প্রিয় সবুজ রং। মুনি ঋষিরা নিজেদের আধ্যাত্মিক কাজ কর্মের জন্য উঁচু সবুজ পর্বত শৃঙ্গ, লম্বা গাসের সবুজ মাঠের মধ্যে শান্ত, সুখী পরিবেশকে আপন করে নিতেন। তার একমাত্র কারন সবুজ শান্তির বার্তাবহ। সম্ভবত সেই বার্তা দিয়েই যোদ্ধা রামের গায়ের রঙ সবুজ।

জানা যায়, ১৯২৬ সালের ১৫ জুলাই মধ্য কলকাতার সরু গলির মধ্যে এই রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শীতলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার স্ত্রী রাজলক্ষ্মী দেবী। তারা শুরু করেছিলেন আজও চলছে সেই পুজো। প্রত্যেক রাম নবমীতে সেজে ওঠে এই রাম মন্দির এই বছরেও যথারীতি ফুল মালায় সেজে উথেছে মন্দিত চত্বর। সকাল থেকেি শুরু হয়েছে পুজো দেওয়ার জন্য ভিড়।

পুরাণ অনুযায়ী রাম বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। হিন্দু ধর্মগ্রন্থে আবার তাঁকে অযোধ্যার রাজা বলা হয়েছে। সপ্তম অবতার রাম ও অষ্টম অবতার কৃষ্ণ হলেন বিষ্ণুর অবতারগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও নেপালে তাঁর পূজার বহুল প্রচলন দেখা যায়। হিন্দুধর্মের বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও বৈষ্ণব ধর্মগ্রন্থগুলিতে যেসব দেবতার কথা পাওয়া যায়, তাদের অন্যতম হলেন রাম।

সারা দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় রাম জনপ্রিয় দেবতা। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও রামায়ণের বিভিন্ন পাঠান্তর দেখা যায়। এই সব পাঠান্তরে স্থানীয় ইতিহাস, লোককথা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্থানীয় ভাষাগুলির স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলি ফুটে উঠেছে। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের কাকাউইন রামায়ণ, বালি দ্বীপের রামকবচ, মালয়েশিয়ার হিকায়ত সেরি রাম, ফিলিপিনসের মারাদিয়া লাওয়ানা ও থাইল্যান্ডের রামকিয়েন (বা ফ্রা রাম) এই জাতীয় গ্রন্থগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

ব্যাংককের ওয়াট ফ্রা কায়েউ মন্দিরে রামায়ণের ছবি দেখা যায়। মায়ানমারের জাতীয় মহাকাব্য হল ইয়ামা জাতদাও যা রামায়ণের ব্রহ্মদেশীয় সংস্করণ। এই গ্রন্থে রামকে ইয়ামা নামে অভিহিত করা হয়েছে। কম্বোডিয়ার রেয়ামকেরে রামের নাম ফ্রেয়াহ রাম। লাওসের ফ্রা লাক ফ্রা লাম গ্রন্থে গৌতম বুদ্ধকেও রামের অবতার বলা হয়েছে।