স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : বিয়ের অনুষ্ঠান করে লোকজন কাহিয়ে হইহই কান্ড করতেই পারতেন ওঁরা। কিন্তু করলেন না। বাংলার মানুষ যখন এত বিপদের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তখন আনন্দের সানাইয়ের সুর বড়ই ক্লিশে হয়ে বাজছিল হাওড়ার চারাবাগান অঞ্চলের দে পরিবার। তাঁরা সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যার্থে। তাও মেয়ের বিয়ের খরচ বাচিয়ে সেই অর্থ তাঁরা দিলেন আক্রান্ত পরিবারের জন্য।

মেয়ের বিয়ের যাবতীয় আড়ম্বর ও অতিথি আপ্যায়নের খরচ বাঁচিয়ে আমফানে বিপর্যস্ত প্রত্যন্ত গ্রামের প্রায় কয়েকশ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন হাওড়ার চারাবাগান এলাকার কন্যাদায়গ্রস্ত এক পিতা। তাঁর এই মহান উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন নবদম্পতিও। এগিয়ে এসেছেন ক্লাব সদস্যরাও। হাসি ফুটেছে আমফানে বিপর্যস্তক দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালি ফ্রেজারগঞ্জের প্রায় আট শতাধিক গরিব পরিবারের।

হাওড়ার চারাবাগান নেতাজি সংঘ ক্লাবের সদস্যরা মিলে খাদ্যসামগ্রী, শিশুদের পোশাক সহ সেই ত্রাণ আজই পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছেন ওইসব পরিবারগুলোর হাতে। চারাবাগান নেতাজি সংঘ ক্লাবের সম্পাদক পিন্টু মন্ডল বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমাদের ক্লাব সদস্য অভিজিৎ দে’র মেয়ে অর্পিতার বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি নিয়ম মেনে পাত্রীর পরিবার কেবলমাত্র ২৫ জন নিমন্ত্রিতের জন্য অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করেছিলেন। এর পাশাপাশি মেয়ের বিয়ের আড়ম্বর কমিয়ে ভুরিভোজের খরচ বাঁচিয়ে সেই টাকায় পাত্রীর বাবা অভিজিৎবাবু আমাদের সামাজিক কাজে এগিয়ে এসেছেন। আজ বুধবার আমরা ক্লাবের পক্ষ থেকে আমফান বিধ্বস্ত এলাকায় ( দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির সন্নিকটে অমরাবতী ফ্রেজারগঞ্জ এর গ্রামে ) শুকনো খাবার যেমন মুড়ি, চিঁড়ে, বিস্কুট, মুড়কি সহ শিশুদের জন্য বনভিটা, হরলিকস বিতরণ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া শিশুদের নতুন জামাকাপড় দেওয়া হচ্ছে। সেই কাজে মেয়ের বিয়ের খরচ বাঁচিয়ে অভিজিৎবাবু আমাদের সাহায্য করেছেন। আমরা খুশি ওনার এই মহান কর্মকান্ডে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ