স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া: ১৫মে বিশ্ব পরিবার দিবস। এমন দিনে সমাজের সামনে এক অনন্য উদাহরণ রাখল পাল পরিবারের সদস্যরা। বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান উপলক্ষ্যে মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এলো আমতা-২ ব্লকের তাজপুর গ্রামের এই পরিবার। দীর্ঘ লকডাউনে কার্যত স্তব্ধ জনজীবন।

কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। একমুঠো অন্ন সংস্থান করতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে বহু পরিবারকে। কারও ভাত জুটলেও জুটছে না শাক-সব্জি বা অন্যান্য খাবার। বাবার শ্রাদ্ধে অন্য কোনও আয়জনের কথা না ভেবে গরীবদের পাশে দাঁড়ালেন তাঁরা।

লকডাউনের মাঝেই গত ২মে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গ্রামীণ হাওড়ার আমতা-২ ব্লকের তাজপুর গ্রামের বাসিন্দা চন্ডীচরণ পাল। হিন্দু প্রথা অনুযায়ী তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়া ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা হলেও তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে পরিবারের তরফে অতিথি আপ্যায়নের অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছে। তার পরিবর্তে,চন্ডীবাবুর শ্রাদ্ধানুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে আমতা-২ ব্লকের প্রায় ৪০০ দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে চাল, ডাল, আলু, তেল, নুন, সাবান, চিনিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।।

নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মানুষের হাতে এই কর্মকান্ড চলেছে বেশ কয়েকদিন ধরে।পাশাপাশি,বেশ কিছু মানুষের বাড়ির দ্বারে গিয়েও পাল পরিবারের সদস্যরা পৌঁছে দিয়েছেন বিভিন্ন সামগ্রী।

চন্ডী বাবুর পুত্র তথা আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত কুমার পাল বলেন, ‘এই বিপদের দিনে যেভাবে মানুষ আমাদের পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাতে আমরা মুগ্ধ।এই সামাজিক সংকটে দাঁড়িয়ে পরিবারের তরফে অতিথি আপ্যায়নের অনুষ্ঠান স্থগিত রেখে তাজপুর,নারিট,মহিষামুড়ি,সারদা,কুশবেড়িয়া সহ বিভিন্ন গ্রামের বেশ কিছু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, ‘শ্মশান যাত্রীদের নিয়েও কোনো জমায়েত না করে তাদের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।’

১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস। ১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। রাষ্ট্রসংঘ ১৯৯৪ সালকে আন্তর্জাতিক পরিবার বর্ষ ঘোষণা করেছিল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.