স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল বিরোধীরা। একই সঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছিল বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা নিয়ে৷ বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, নির্বাচনে রক্ত ঝড়লেও কেন বাংলার বুদ্ধিজীবীরা মুখ খুললেন না? কলকাতা 24×7-এ এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এপ্রসঙ্গে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী তথা তৃণমূলের রাজ্য যোগেন চৌধুরীর বিস্ফোরক মন্তব্য, “গড়বেতা, কেশপুর, নেতাই-য়ে যে সন্ত্রাস দেখেছি এখন তার থেকে অনেক শান্তিতে আছি আমরা৷ পঞ্চায়েত ভোটে যা ঘটেছে তা নীচুতলাতেই ঘটেছে৷ এতে উপরমহলের কোনও হাত ছিল না৷”

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় রাজ্যে ‘পরিবর্তন চাই’ স্লোগান তুলেছিলেন একদল বুদ্ধিজীবী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মহাশ্বেতা দেবী, তরুণ সান্যাল, যোগেন চৌধুরী, শুভাপ্রসন্ন, অপর্ণা সেন, বিভাস চক্রবর্তী, ব্রাত্য বসু, অর্পিতা ঘোষ, কবীর সুমন, শাঁওলী মিত্র, কৌশিক সেন প্রমুখ৷ এঁরা সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ঘটনার প্রেক্ষিতে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন।

এরপর ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক ‘পরিবর্তন’ হয় বাংলায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে।

এরপর ছবিটা দ্রুতই বদলে যেতে শুরু করে। ব্রাত্য বসু হয়ে যান রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। শাসক দলের তোষণে রাজ্যে একপ্রকার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে ওঠে। মহাশ্বেতা দেবীকে বাংলা আকাদেমির সভাপতি করা হয়। বাংলার বিশিষ্টজনেরা ক্রমেই তৃণমূলমুখী হয়ে পড়েন। ২০১৩ সালে ব্রাত্য বসু এবং অর্পিতা ঘোষের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর ঘনিষ্ট সুবোধ সরকার ও অরিন্দম শীল।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে মনোনয়ন জমা থেকে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত প্রায় ১২জন মারা গিয়েছে৷ তৃণমূলী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সেভাবে মুখ খুলতে দেখা যায়নি একদা পরিবর্তনকামী বুদ্ধিজীবীদের৷ সেইসময় মমতাপন্থী বুদ্ধিজীবীরা একেবারেই নীরব হয়ে যান৷ তবে ওইসময় নিন্দায় সরব হন বিভাস চক্রবর্তী, প্রতুল মুখোপাধ্যায়, মীরাতুন নাহার প্রমুখ। এই মর্মে প্রেসক্লাবে একটি প্রতিবাদ সভা করেন তাঁরা। অন্যদিকে শঙ্খ ঘোষ তথাকথিত ‘উন্নয়নের’ বিরুদ্ধে কবিতা লেখেন। কৌশিক সেন ও অপর্ণা সেন সন্দেশখালি থেকে শুরু করে এনআরএস ইত্যাদি ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।

এব্যাপারে যোগেন চৌধুরীর মত, “যে কোনও একটা রাজনৈতিক দলকে আমরা বেছে নিই৷ কমিউনিস্ট পার্টিকে আমরা এক সময় বেছে নিয়েছিলাম৷ কিন্তু তারা সাধারণ মানুষের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দিতে পারেনি৷ তারপর তৃণমূলকে বেছে নিয়েছি৷ এরা বামেদের থেকে অনেক ভাল৷ গড়বেতা, কেশপুর, নেতাই-য়ে যে সন্ত্রাস দেখেছি এখন তার থেকে অনেক শান্তিতে আছি আমরা৷ আর একটা কথা, বাম আমলে যা ঘটত তা সরকারি নির্দেশে ঘটত৷ কিন্ত এখন সেটা হয় না৷ নীচুতলায় কোনও ঘটনা ঘটতে পারে কিন্তু তার জন্য উপর মহলের কেউ দায়ী থাকে না৷”