দীপাবলি লক্ষ্মী আরাধনার দিন। সেই অতীত থেকেই এই দিনটিকে দীপান্বিতা লক্ষ্মীদেবীর আগমন ও অধিষ্ঠান দিবস হিসেবে চিহ্নিত করি আমরা৷ আজও ধনতেরাস, ধনভাগ্য নির্ণয়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। কিন্তু ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র বলছে, আপনার ধনভাগ্য সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কীভাবে দীপাবলি পালন করছেন, তার ওপর। কতগুলি বিষয়ে বাস্তুশাস্ত্র কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এগুলি না মানলে ধনলাভের বদলে শুরু হয়ে যেতে পারে ভাগ্য বিপর্যয়।

১.  দীপাবলিতে লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি পূজা উত্তর ভারতীয়দের পরম্পরা। এখন বাংলাতেও এই আরাধনা রীতিমতো জনপ্রিয়৷ কিন্তু এই পূজা করার আগে জেনে নিন, আপনি সঠিক ভাবে লক্ষ্মী ও গণেশ মূর্তি রাখছেন কি না। নিয়ম অনুসারে গণপতিকে লক্ষ্মী মূর্তির বাম দিকে রাখতে হবে। না হলে এই পুজো ফলদায়ী হবে না।

২. দীপাবলির লক্ষ্মী পুজোয় কখনও তুলসী পাতার ব্যবহার করতে নেই৷বলা হয়, শালগ্রামের সাথে বিয়ে হয় তুলসীর৷শালগ্রাম আবার বিষ্ণুর আরেক অবতার৷অন্যদিকে বিষ্ণুর স্ত্রী লক্ষ্মী৷ফলে লক্ষ্মী পুজোয় তুলসী ব্যবহার করা অনুচিত৷ তাতে দেবী কুপিতা হন৷

৩. ঠাকুরঘরের চারপাশে রাখুন লাল রংয়ের প্রদীপ৷ শুধু তাই নয়, দীপশিখার অভিমুখ থাকবে ডান
৪. দেবী লক্ষ্মী বিবাহিতা৷তাই তাঁকে অর্পণ করা ফুলের রং হবে লাল বা গোলাপী৷ কখনই সাদা রংয়ের ফুল দিয়ে অঞ্জলি দিতে নেই৷ এমনকি সাদা রংয়ের আসনেও রাখতে নেই দেবীকে৷

৫.লক্ষ্মী আরাধনার পাশাপাশি, ভগবান বিষ্ণুরও পুজো করা উচিত৷ লক্ষ্মী গণেশ পুজোর শেষের অব্যবহিত পরেই ভগবান বিষ্ণুর পুজো শুরু হওয়া দরকার৷

৬. লক্ষ্মী ও গণেশ মূর্তি বাছার সময়ে দেখতে হবে মূর্তিগুলি যেন উপবিষ্ট অবস্থায় থাকে৷ দণ্ডায়মান লক্ষ্মী-গণেশ কখনওই দীপাবলিতে পূজ্য নন। লক্ষ্মী ও গণেশ মূর্তিকে উত্তর-পূর্ব দিকে মুখ করে বসাতে হবে। অন্য কোনও দিকে মূর্তি বসালে তা বিপদ ডেকে আনতে পারে। বাস্তু মতে, যে ঘরে দীপাবলি পূজার কাজ করা হবে, তা যেন গৃহের ঈশান কোণে অবস্থিত হয়। এই কোণ আসলে উত্তর-পূর্ব কোণ।