সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: পুজোয় আপনার পাড়ায় দারুন আলো দিয়েছে। এক্কেবারে চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর মতো। দেখছেন আর তারিফ করছেন। কিন্তু এই তারিফ পে তারিফ এর পিঠপিছে যে আপনার ঘরের ইলেকট্রিক খরচ যে বাড়িয়ে দিচ্ছে সে খবর জানেন কি ? জানলেও কিভাবে তা আটকাবেন জানা নেই। উত্তর দিচ্ছেন বাঙালি যুবক। একটি অ্যাপ, বদলে দিতে পারে আপনার বাড়ির চড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিলের চিত্র।

ইলেকট্রিক বিল। পুজোর বাজারে অন্যন্য খরচের পাশাপাশি এই খরচের পরিমাণও অনেকটাই হয়। যেটা পুজোর আগে বুঝতে পারা যায় না। দুর্গা কৈলাসের পথে ফিরে যান। ছলছলে চোখে ভরতি নস্ট্যালজিয়া। ‘আবার এসো মা’ হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ। বাড়ির কর্তারও প্রচুর দুঃখ। তারও চোখে জল। কিন্তু এ জল সে জল নয়। এই জল ‘বাঁশের’ প্রতীক। কারন মাস শেষে লাইটের বিল দেখে কর্তার চক্ষু চড়ক গাছ। বাড়িতে অর্ধেক সময়েই ছিল না পরিবার। দেদার ঠাকুর দেখে বেড়িয়েছেন সঙ্গে পাড়ার আড্ডা খানা পিনা। আলো, পাখা বন্ধ করেই বাইরে বেরিয়েছিলেন। জ্বালিয়ে গিয়েছিলেন শুধু টুনি বাল্ব। তারপরেও এত টাকার বিল? কিভাবে ? অথৈ জলে বাড়ির কর্তা।

পুজোর পরে এই ইলেকট্রিকট ‘শক’ খাওয়া পরিবারের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ‘শক’ না খাওয়ার পদ্ধতি অজানা। এর জেরে বাড়িতে ঝগড়াঝাটিও হয়। কারনে অকারনে ছেলেপিলেদেরো বাপের মুখ ঝামটা খেতে হয়। কত্তা মুখ ফুটে বলতে পারেন না ইলেকট্রিক শকের করুন কাহিনী। শক থেকে বাঁচবার উপায় ইন্টারনেট এনবেল ইলেকট্রিক মিটার। বানিয়েছেন দেবাশিষ। এই মিটার কমাবে পোস্ট পুজো দুঃখ। কিভাবে ইলেকট্রিকের খরচ কমাবে এই যন্ত্র।

হাওড়া জেলার বালির বাসিন্দা দেবাশিষ বলেন, “পুজোর সময় পাড়ায় পাড়ায় প্রচুর বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ হয়। সেই সময়ে স্বাভাবিক ভাবেই বিদ্যুত সরবরাহে সমস্যা দেখা যায়। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া দরকার সেটা মেলে না। ফলে কারেন্ট না গেলেও সিইএসসি এলাকায় ভোল্টেজ আপ ডাউন হয়, রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ সরবরাহকারি সংস্থা সবথেকে সমস্যায় পড়ে। কারেন্ট যাওয়া অবধারিত। এই ভোল্টেজ আপ ডাউন হচ্ছে, কারেন্ট বারবার আসা যাওয়া করছে এর ফল হল বিদ্যুতের বিল বেড়ে যাওয়া। যেটা আমরা ভাবি পুরনো মিটার অথবা পুরনো বাড়ির ইলেকট্রিক লাইনের জন্য হচ্ছে বা আমরা নিজেরাই আলো পাখা জ্বালিয়ে বেশী বিদ্যুৎ খরচ করছি। এই সময় হুকিংটাও বড় সমস্যা। ফল গৃহস্থ বাড়ির কর্তার মাথায় হাত। এটা থেকে বাঁচাতে পারে আমার তৈরি ডিভাইস।”

কিভাবে কাজ করবে যন্ত্র? দেবাশিষ বলেন, “ইন্টারনেট আমাদের জীবন দ্রুত করেছে। এর সঙ্গে যদি এই ইলেকট্রিককেও জুড়ে দেওয়া হয় তাহলে তা আমাদের ইলেকট্রিক বিল কমাতে সাহায্যও করবে। ঠিক এই চেষ্টাই আমি করেছি।” দেবাশিষের কথায়, “আমার তৈরি ডিভাইস যদি ইলেকট্রিক মিটারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় তাহলেই সব সমস্যার হাল হতে পারে। এটা শুধু ইলেকট্রিক বিলের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরনই দেবে না পাশাপাশি কতটা ইলেকট্রিক খরচ হচ্ছে, কিভাবে কোথা থেকে হচ্ছে কেনই বা হচ্ছে সেই সমস্ত তথ্য দেবে। তথ্য আসবে আইওটি মোবাইল অ্যাপে। সেটাও আমি বানিয়েছি।”

যন্ত্রটি বলে দেবে পুরো মাসে কোন সময়ে আপনি কত বিদ্যুৎ খরচ করেছেন সেই তথ্যও মিলবে। একইসঙ্গে সেই তথ্য দেখে যদি মনে হয় কোনও একটি নির্দিষ্ট সময়ে আপনার বিদ্যুৎ বেশী খরচ হচ্ছে সেই সময়ের বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব। আপনি যেখানেই থাকুন না কেন অ্যাপ কে নির্দেশ দিতে হবে শুধু যে ঘরের এই লাইট বা পাখা বন্ধ করতে হবে। বাড়িতে ওয়াই ফাই মারফত কাজ হয়ে যাবে। মিটার অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ সময়ের ভোল্টেজ এবং কম ভোল্টেজের তথ্যও দেবে। লো ভোল্টেজ হলে অ্যাপ বলে দেবে যে আপনার ইলেকট্রিক জিনিসপত্র বন্ধ করা উচিৎ। দেবাশিষ বলেন, “মিটারকে অটো মোডে করে রাখলে নির্দিষ্ট ভোল্টেজের কম হয়ে গেলে অটোমেটিক আপনার ঘরের সমস্ত ইলেকট্রিক ডিভাইস বন্ধ করে দেবে।”

দেবাশিষের দাবি, “এটাই আমাদের ভবিষ্যৎ। এটাই বিদ্যুৎ চুরি রুখতে পারে। বিল কমাতে সাহায্য তো করবেই।” শুধু পুজোর পরে নয় সারা বছরই বিদ্যুতের বিল কমাতে সাহায্য করবে এই যন্ত্র।
নরেন্দ্র মোদী স্মার্ট গ্রিড প্রজেক্টের মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা করছেন কিন্তু এই মিটার ওদের নেই এবং স্মার্ট গ্রিড এত ডিটেল তথ্যও দেবে না বলে দাবি দেবাশিষের। ডিভাইসের খরচ মাত্র ৫০০ টাকা। এবার ভেবে দেখুন।

সূত্র – মিতুল দাস