বিশেষ প্রতিবেদন: অফিসে কাজের চাপ ও প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তি পেতে মন ডানা মেলে উড়তে চায়। দূরে কোথাও পাহাড়ের কোলে কয়েকটা দিন কাটাতে কেমন লাগবে? তা যদি হয় কাশ্মীর, তাহলে তো সোনায় সোহাগা! কিন্তু কাশ্মীরে যেতে হলে তো হাতে সময় চাই। অফিসে ছুটি পাওয়া কি মুখের কথা? তবুও চিন্তা নেই!

ঘরের কাছেই রয়েছে ভ্রমণ ঠিকানা দারিংবাড়ি। এখানে বেড়ানোর খরচও বেশ কম। সৌন্দর্যে ঘেরা এই পাহাড়ি শহরটি এক সময় ব্রিটিশদের গ্রীষ্ম অবকাশের প্রিয় ঠিকানা ছিল। যারা অফবিট ভ্রমণ ভালবাসেন তাঁদের বিশেষ ভাল লাগবে এই নির্জন জায়গাটি।

ওডিশার কন্ধমল জেলায় প্রায় ৩০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই শৈলশহর দারিংবাড়ি। অনেকাংশে কাশ্মীরের সঙ্গে মিল থাকায় জায়গাটি কাশ্মীর অফ ওড়িশা নামে পর্যটকদের কাছে পরিচিত। রয়েছে সবুজ গালিচার টিলা এবং আদিবাসি গ্রাম। নদী পাহাড় অরণ্য এখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।

শীতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নেমে গেলে সমস্ত শহর বরফের চাদরে ঢেকে যায়। রয়েছে কফিক্ষেত এবং মশলার ছোটবড় বাগান। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায় বলে পক্ষী বিশারদদের কাছেও দারিংবাড়ি খুব প্রিয়। ভুবনেশ্বর থেকে ২৫০ কিলোমিটার এবং বেহরামপুর থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দূরেই এই পাহাড়ি শহর অবস্থিত। ভাড়া গাড়িতে যাওয়াই ভালো। আগে থেকে হোটেল বুক করাও জরুরি।

যাওয়ার সময় রাস্তার দুধারে পড়বে ঘন অরণ্য, গোল মরিচের গাছ, কফি বাগান ইত্যাদি। রয়েছে প্রাচীন মনাস্ট্রি। ছোট এই শরটিতে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি যান চলাচল করে তাই ভ্রমণের সময় সঙ্গে গড়ি থকলে সুবিধে হবে। একটু দূরেই রয়েছে পুটুডি ঝর্না। এই জায়গাটি পিকনিকের জন্যও বেশ ভালো। ডুলুরি নদীর তীরে বসার জায়গাটিতে বসে সপরিবারে বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আড্ডা দিতে পারেন।

কিছুদিন আগেই ফণী ঘূর্ণীঝড়ের তান্ডবে ওড়িশা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সম্প্রতি এই রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলি সেজে উঠছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুরীতেও এখন পর্যটকরা যেতে পারছেন। ফলে যারা ওড়িশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তারা এই সুন্দর এই সুন্দর দারিংবাড়িতে বেড়াতে যেতে মিস করবেন না। আজই ঘুরে আসুন নির্জন ঠিকানা দারিংবাড়ি থেকে। যেখানে গেলে মন ভালো হয়ে যায়। থাকার জন্য রয়েছে ইউটোপিয়া হোটেল। ফোন: ৯১৫২৪৭৬৮৩০। সাইরাইজ হোটেল। ফোন: ৯১৫২৪৩৪৪৪৮।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব