সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: একটা ঘর, অনেকগুলো বছর, সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টার ঢং ঢং শব্দ। প্রত্যেকটি ঘণ্টার শব্দ এক একটি মুহূর্তের সাক্ষী। বহু পরিবর্তন, ইতিহাসের সাক্ষী ওই বাংলা ঘড়ি ঘরের প্রত্যেকটি টিক টিক। সেটি মানিকতলা চার মাথা মোড়ের ঘড়ি ঘর। সাদা কালো থেকে লাল হয়ে শহর এখন নীল সাদা। থেমে থাকেনি সময় দেখিয়ে যাওয়া। শুধু থমকে গিয়েছে শুধু ঘণ্টার শব্দ।

আরও পড়ুন: রাজ্যে ফের ঝড় বৃষ্টি’র সম্ভাবনা

৮০ বছরের বেশি সময় পেরিয়েও মানিকতলার জার্মান ক্লক দেখে চলেছে শহরের পরিবর্তন। দেখে মনে হবে ঘড়ি চলছে না, কিন্তু লক্ষ করলে অবাক হতে হয় ঠিক এক মিনিট অন্তর কাঁটা লাফিয়ে লাফিয়ে ঠিক এগিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় প্রত্যেক ঘণ্টায় বেজে উঠত ঘড়ির ঘণ্টা রক্ষনেবেক্ষন হলেও ঠিক করা যায়নি ঘড়ির শব্দ। অন্যতম বিশেষত্ব বাংলায় লেখা সময়ের এক , দুই, তিন অঙ্ক।

কলকাতার বহু স্থানেই এখন ‘ঘড়ি ঘর’ বা ‘clock tower’ দেখা মেলে। আকারে বড়, মেজ, ছোট ঘড়িগুলির আদল লন্ডনের বিগ বেন ‘clock tower’। মানিকতলা ঘড়ি ঘর ৮০ বছরের বেশি পুরনো। শহরের অনেক কথা বলে। আগেও দেখেছে, এখনও দেখবে অনেক রঙ পরিবর্তনের খেলা, তবে নিঃশব্দে।

বাড়ির বাসিন্দা দিব্যেন্দু চক্রবর্তী বলেন , “ঘড়িটা আশি বছরের বেশি পুরনো। কারণ আমার বয়স প্রায় ৭০। ছোট থেকেই আমি এই ঘড়ি দেখছি। তারও বছর দশেক আগে এই বাড়িতে আসে আমার বাবা। বাবার থেকে শুনে যা মনে আছে তখনও ঘড়িটা ছিল। তাহলে এর বয়স আশির বেশি হবে তো কম হবে না।“

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “তখন বিমানবন্দর থেকে আসার এটাই ছিল মূল রাস্তা। রানী এলজিবেথ এখান দিয়েই গিয়েছেন। বুলগানিন-ক্রুসচেভ ১৯৫৫ সালে কলকাতায় এসেছিলেন। তখনও রাশিয়ার রাষ্ট্রনেতারা এই রাস্তা দিয়েই গিয়েছিল। কাজেই অনেক ইতিহাসের সাক্ষী এই ঘড়ি ঘর।” কলকাতা তখন আর এখন, একটুও মেলানো যাবে না। কিন্তু এই এলাকার পুরনো কোনও ছবি সহজেই চিনিয়ে দেয় ওই ঘড়ি ঘর।

আরও পড়ুন: গান বাণে বিদ্ধ বাবুল, প্রশ্ন ‘তাহলে কাকা লাভ কার’

দিব্যেন্দু চক্রবর্তী বলেন , “এই বাজারটা আসলে নান পরিবারের। এখন ওনারা হেদুয়ায় থাকেন। এই ঘড়ি , বাড়ি, বাজার সব ওদের। শহরের মূল পয়েন্টে থাকার জন্য সময় জানাতো ঘড়ি। তখন ঘণ্টা বাজত, এখন শুধু সেটা বাজে না। তবে বাকি সব ঠিক রয়েছে। ওদের লোক এসে প্রত্যেক সপ্তাহে এসে দম দিয়ে যায়। ওরাই দেখাশোনা করে।” তাঁর কথায়, “কলকাতার বহু পরিবর্তনের সাক্ষী এই ঘড়িটা। কত রঙ পরিবর্তন হয়েছে। তখন ফাঁকা রাস্তায় অনেক দূর পর্যন্ত ঘড়ির শব্দ যেত। এখন শব্দ হয় না।”

লাল, নীল-সাদা, কমলা, নিঃশব্দে নগরকীর্তনে মজে বুড়ো ঘড়ি

লাল, নীল-সাদা, কমলা, নিঃশব্দে নগরকীর্তনে মজে বুড়ো ঘড়িhttps://www.kolkata24x7.com/this-clock-tower-knows-how-kolkata-changed-its-colour.html

Kolkata24x7 यांनी वर पोस्ट केले रविवार, २४ मार्च, २०१९