সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : অন্নপূর্ণা মুখ তুলে তাকাননি। ভেবেছিলেন লক্ষ্মী গনেশ অন্তর মুখ তুলে তাকাবেন। নতুন বছরের আগে সেই সম্ভাবনাতেও দাঁড়ি পড়ে গিয়েছে ফের লকডাউন ঘোষণা হয়ে যাওয়ায়। আপাতত তাই কাজহীন অনুন্নত কুম্ভকার সমিতির মৃৎশিল্পীরা। ব্যাপকভাবে লোকসানের মুখে দাঁড়িয়ে তাঁরা। চাইছেন মমতার সাহায্য।

করোনার কবলে যখন সারা বিশ্ব বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এর জেরে বাংলার মৃৎশিল্পীরা মৃত্যুর পথে এগিয়ে চলেছে। উত্তর ২৪ পরগনার, ডানলপ বরানগর ,টবিন রোড ,নোয়াপাড়া অঞ্চল জুড়ে রয়েছে মৃৎশিল্পীদের কারখানা। এই পভীর সংকটে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অনুন্নত কুম্ভকার সমিতি বরানগর আঞ্চলিক কমিটির মৃৎশিল্পীরা লকডাউনের ফলে সমস্ত পুজো বন্ধ। ইতিমধ্যেই অন্নপূর্ণা পুজো চলে গেলেও সামনেই বাংলার নববর্ষ তাতে ঘরে বানানো মতো অবস্থায় নেই অনেকে লক্ষী-গণেশ মূর্তি। এই সময়ে তাদের কারখানায় রীতিমত কারিগরদের কাজের ঢল নেমে আসে। নাওয়া খাওয়া ফেলে শুরু হয় কাজ। কিন্তু আজ সব ফিকে।

অনুন্নত কুম্ভকার সমিতির পক্ষে সত্যনারায়ণ পাল বলেন , ‘লকডাউনের জেরে অন্নপূর্ণা পুজো না হওয়ায় প্রচুর লোকসান। অন্তত এক একটি শিল্পীর লাখ টাকার উপর ক্ষতি হয়েছে। অর্ডার দেওয়ার পর জিনিস রেডি পড়ে রয়েছে স্টুডিয়োতে , কেউ নিয়ে যায়নি। অনেকে ফোনে অর্ডার বাতিল করে দেয়। লকডাউনের কথা শুনে আর ভাইরাসের ভয়েতে কর্মচারীরাও চলে গিয়েছে দেশে। তাই ভেবেছিলাম যে লক্ষ্মী – গনেশ বানিয়ে কিছুটা হাল ফেরাবো। সেটাও হয়নি, কারণ লক্ষ্মী গনেশ বানাতেই পারিনি।’

একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘মাটি, বিচালি, খড় রঙ জিনিসপত্রের দাম রয়েছে। সব কাজ সময় সাপেক্ষ। তাই কিছুই কড়া যায়নি। এটাও বুঝে গিয়েছি যে হাল খাতা খুললে তবে না আমাদের হাল ফিরবে। আপাতত আমাদের অবস্থা খুব খারাপ। তাছাড়া এই সময় থেকে বাইরের বিভিন্ন দেশ থেকে চলে আসে দুর্গা প্রতিমার অর্ডার। বিদেশে যা অবস্থা সেখানকার মানুষ সেই অবস্থাতেও নেই।

সেখান থেকেও যে একটু ব্যাবসাকে সামলাবো সেই উপায়ও নেই। তার উপর জিএসটি তো আমাদের হাল আগেই খারাপ করেছে। এই সময় আমাদের আশা একমাত্র রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। উনি যদি কিছু ব্যবস্থা করে দেন। নবান্নে আমাদের আর্জি জানিয়ে চিঠি লিখেছি। যদি কিছু উনি ব্যবস্থা করে দেন। জানি না আদৌ হবে কি না কিছু , কিন্তু আমারা আমাদের কথা জানিয়েছি। আমাদের শেষ আশা উনিই।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ