সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ছিল সংশোধনাগার। হয়ে গেল সংগ্রহশালা। বর্তমান নাম বালুরঘাট জেলা পুরাতত্ত্ব সংগ্রহশালা ৷ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, ১১৫ বছর আগে তা ছিল ইংরেজ জমানার জেলখানা। ২০০৪ সালের অক্টোবর মাসে সংগ্রহশালাটির উদ্বোধন হয় ৷

জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত প্রত্নবস্তুর সঙ্গে সংগ্রহশালাটিতে রয়েছে মূলত বালুরঘাট থেকে চল্লিশ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে পূনর্ভবা নদীর পূর্বতীরে বানগড় থেকে প্রাপ্ত প্রত্নবস্তুর সম্ভার ৷ সপ্তম-অষ্টম শতাব্দী থেকে একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত মৌর্য , শুঙ্গ থেকে পাল, সেন যুগ সময়ের কালোপাথর এবং বেলেপাথরের তৈরি মূর্তির বিপুল সংগ্রহ। রয়েছে প্রাচীন পূঁথি, জেলার লোকশিল্পের নানা নিদর্শন৷ বালুরঘাট মহাবিদ্যালয়েও রয়েছে একটি সুন্দর সংগ্রহশালা ৷ এখানেও রয়েছে বেশকিছু প্রাচীন পাথরের মূর্তি ৷ জেলা পুরাতত্ত্ব সংগ্রহশালা সোমবার বন্ধ থাকে ৷ প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ১০ টাকা ৷ মহাবিদ্যালয়ের সংগ্রহশালাটি সর্বসাধারণের জন্য এখনও খুলে দেওয়া হয়নি ৷মূল সংগ্রহশালাটি ১৯১০ সালেও ছিল ইংরেজদের তৈরি জেলখানা ৷ অফিসের একজন অস্থায়ী কর্মী সঞ্জীব বোস।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দুটি সংগ্রহশালাই বালুরঘাটে অবস্থিত।এর একটি হল বালুরঘাট কলেজ সংগ্রহশালা ও অন্যটি জেলা সংগ্রহশালা। মৌয যুগ থেকে ইসলাম যুগ অবধি দীর্ঘ প্রায় আড়াই হাজার বছরের বিভিন্ন প্রত্নবস্তু, মূর্তি, পোড়ামাটির তৈজসপত্র, অস্ত্র, তাম্রশাসন, স্তম্ভ-সহ নানা স্থান পেয়েছে ওই দুই সংগ্রহশালায়।’ কিন্তু কিভাবে এত পরিমাণ ঐতিহাসিক গুরুত্ব যুক্ত জিনিস এল ওই জেলায়।

আরও পড়ুন – আজকের দিঘা আবিষ্কার করেছিলেন কে….

জানা যাচ্ছে ‘ইখতিয়ারউদ্দিন মহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী ১২০৪ সালে তৎকালীন সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণসেনকে বিতাড়িত করে এই বাণগড় বা দেবকোটে মুসলিম রাজধানী স্থাপন করেন।এবং এখানেই গুপ্তঘাতকের হাতে তাঁর মৃত্যু হয়।দেবকোটের পীরপাল গ্রামে এখনও রয়েছে বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ইখতিয়ারউদ্দিন মহম্মদের ধূলি-ধূসরিত ভগ্নপ্রায় সমাধিসৌধ। অনুমান করা হয়, ১২২০ সালে পাণ্ডুয়ায় স্থানান্তরিত হওয়ার আগে পযর্ন্ত দেবকোটই ছিল বাংলার রাজধানী। স্বাভাবিকভাবেই এমন স্থান।প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিসে ভরপুর হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।