সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: ‘আমি তো হোয়াটস অ্যাপে লিখেছিলাম পাকিস্তানের হয়ে।’ উল্টো দিক থেকে কড়া প্রশ্ন “যেখানেই লেখ, কেন লিখেছিলে?’ না এটা পুলিশের প্রশ্ন নয়। এই প্রশ্ন ‘bonno ছেঁচরা’-র। পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় শহীদ জওয়ানদের নিয়ে যেমন শ্রদ্ধার পোস্ট হয়েছে ফেসবুকে তেমনই বেশ কিছু এমন পোস্টও হয়েছে যেখানে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে প্রচুর আপত্তিজনক পোস্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সমর্থনেও অনেক ফেসবুক পোস্ট দেখা গিয়েছে। সেই ফেসবুক অপরাধীদের এক এক করে ধরে শিক্ষা দিতে শুরু করেছে হাবরার এই ‘ছেঁচরা’

প্রকাশ দেবনাথ হলেন সেই ‘bonno ছেঁচরা’ যিনি ভারতীয় সেনাদের নিয়ে আপত্তিজনক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট দেখলেই তাদেরকে খুঁজে বার করে উচিৎ শিক্ষা দিচ্ছেন। অনেকটা সেই ধর্মেন্দ্রর ‘এক এক কো চুন চুন কে মারুঙ্গা’ ডায়লগের মতোই কাজ করছেন বছর তেইশের এই যুবক। ‘bonno ছেঁচড়া আসলে প্রকাশের নিজস্ব ফেসবুক ট্রোল পেজ। সেখানে মজা করে বিভিন্ন রকম পোস্ট করেন প্রকাশ। কিন্তু এবার আর মজা নয়। অত্যন্ত গম্ভীর বিষয় হিসাবেই পাক সমর্থনযুক্ত পোস্ট গুলিকে নিয়েছেন। প্রথমে ট্রোল করেছেন, তারপরে সোজা ঠিকানা খুঁজে বাড়ি গিয়ে হানা দিয়েছেন।

তবে কোনও মারধোর বা ধমক নয়। শান্তভাবে বুঝিয়েছেন । তারপর ভারতীয় হয়েও পাক ‘সমর্থনকারিকে’ দেশের জয়গান গাইয়েছেন। কাউকে রাস্তায় আটকে জাতীয় সঙ্গীত গাইয়েছেন। কাউকে আবার জাতীয় পতাকা নিতে রাস্তায় হাঁটিয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ ব্যাঙ্গাত্মক ভূমিকা থেকে এমন রণমূর্তিতে হাজির হওয়ার কারণ। প্রকাশের ফর্মুলা খুব সহজ। তিনি বলেন, “যে দেশে থাকবো সেই দেশের অপমান সহ্য করতে পারি না। তাই এই ধরনের কাজ করে ভিডিও পোস্ট করেছি। যাতে শিক্ষা পায়। দ্বিতীয়বার এমন করার আগে যেন ভাবে সেই জন্যই এই শিক্ষা দিয়েছি।”

ইতিমধ্যেই জনা পাঁচেক পাক সমর্থককে ধরে ‘শাস্তি’ দিয়েছেন প্রকাশ। এদের মধ্যে শতাব্দী দেয় রায় চৌধুরী, সমরেশের মতো বেশ কয়েকজন রয়েছে। অনিন্দ্য, কিঙ্কিনি, টুম্পা দেব , মৌসুমি দাসের মতো নেটিজেনও রয়েছে প্রকাশের তালিকায়। তাঁদের খোঁজ চালাচ্ছেন তাঁর ফ্যানরা। প্রকাশ বলেন, “আমার পেজের ফ্যান যারা আছেন। তাঁরাও আমাকে এই কাজে সাহায্য করছেন। যেখানেই এমন দেখছেন তাদেরকেই ধরে শিক্ষা দিচ্ছেন। একটা মিলিত প্রচেষ্টা।”

‘bonno-ছেঁচরা’র পোস্টের জেরেই পুলিশ রাণাঘাট থেকে গ্রেফতার করে তন্ময় নামে এক যুবককে। প্রকাশের কথায়, “আমাকে এই নিয়ে যদি কেউ দোষারোপ করে তাতেও সমস্যা নেই। ভুল হলে ভুলের শিক্ষা আমি দেব। পুলিশ যদি এ নিয়ে আমার সাহায্য চায় তাহলেও তাঁদের সাহায্য করতে আমি রাজি আছি।”