সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি একদিকে বিপ্লবী অন্যদিকে বাঙালি যে ব্যবসা করে অন্য উচ্চতায় পৌঁছতে পারে তার অন্যতম প্রমাণ। তিনি বিভূতিভূষণ সরকার।

স্বাধীনতা পূর্ব যুগ। চট্টগ্রাম। হয়ে গিয়েছে জালালাবাদের যুদ্ধ। বিপ্লব তখন ভারতের আকাশে বাতাসে। ১৩ বছরের ছেলে যুক্ত হয়ে পড়েছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে। প্রত্যেক পদে এল অনেক সমস্যা। সমস্ত সমস্যাকে হারিয়ে সেদিনের বিপ্লবী বিপ্লব এনেছিল বাঙালির ব্যবসায়। বিভূতিভূষণ সরকারের জন্ম ১৯১৭ সালে। স্থান চট্টগ্রামের রাউজান।

ছোট থেকেই মেধাবী ছিল সে। এমন ছেলে কখন স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে পড়েছিল কেউ বুঝতে পারেনি।
জালালাবাদ যুদ্ধের ভারতীয় বিপ্লবীদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে দিতেন ছাত্র বিভূতিভূষণ। একদিন ধরা পড়ে যান পুলিশের হাতে। অস্ত্রাগার লুণ্ঠন মামলায় ছমাস জেল হয়। পাঠানো হয়েছিল বার্মার থারওয়াডি জেলে।

সামনে ম্যাট্রিক পরীক্ষার ছিল। পড়াশোনা করতে চেয়েছিলেন। অনুমতি মেলেনি। পরীক্ষার ঠিক দু’মাস আগে ছাড়া পান তিনি। পরীক্ষা দিলেন। পড়াশোনা নেই। পাশ করবেন কী করে? চমকে দিয়ে পাশ প্রথম বিভাগে। এরপর আইএসসিতে দ্বিতীয় হন। বিএসসিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। এমএসসিতেও ফার্স্ট ক্লাস।।
একের পর এক চমক।

আইসিএস পরীক্ষার দেবেন ঠিক করলেন। পাশ করলে সরকারি চাকরি। সমস্যা বাঁধল অন্য দিকে। ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লড়ে জেল খেটেছেন। ব্ল্যাক লিস্টেড। পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতিই মিলল না।

অনেক অনুরোধেও কোনও কাজ দেয়নি। মেধাবী ছেলে। আটকায় কার সাধ্য? এলেন কলকাতায়। ছোটখাটো ব্যাবসা করতে শুরু করলেন। মাঝে বিয়ে করেছেন। ১৯৪৩ সাল। হাতে হাজার ছয়েক টাকা। তাই হাতে নিয়েই যাদবপুরে কাঁচের কারখানা খুললেন। নাম কৃষ্ণা গ্লাস ওয়ার্কস। স্ত্রীয়ের নাম যে। এভাবেই বাঙালি যে ব্যবসায় খুব একটা কমতি যায় না তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

বিভূতিভূষণের দ্বিতীয় সন্তান ডাক্তার কুণাল সরকার। তাকে এখন সবাই চেনেন। বিখ্যাত কার্ডিয়ো থোরাসিক সার্জন।

মামার বাড়ির দিক দিয়ে চিকিৎসকের পরিবার কুণাল সরকারের। কৃষ্ণা দেবীর বাবা ছিলেন ডাক্তার। একদিকে বাবার মেধা , অপরদিকে দাদুর বাড়ির চিকিৎসকের পরিবার। দুয়ের মিলনে কুণাল সরকার।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.