বিশেষ প্রতিবেদন: বেড়াতে যেতে কার না ভাল লাগে! অফিসে দু’দিনের ছুটি পেলেই মন ডানা মেলে উড়তে চায় অচেনা দিগন্তের ক্যানভাসে। শীতের ভ্রমণ নিয়েও আলাদা একটা উন্মাদনা কাজ করে ভ্রামণিকদের মধ্যে। কারণ, শীতকালেই সব চেয়ে স্পষ্ট দেখা যায় ল্যান্ডস্কেপ। ভ্রমণ রসিকরা তাই বেরিয়ে পড়েন জঙ্গলে পাহাড়ে। এবার তো শীত চলে যেতে বসেছে! তাহলে এবার আপনার ভ্রমণ গন্তব্য কী হবে?

সুযোগ পেলেই অনেকে বেরিয়ে পড়েন প্রকৃতির টানে। উইকএন্ড কিংবা ছোট ছুটিতে প্রকৃতির বুকেই অবকাশের ঠিকানা খুঁজে নেন ভ্রমণরসিকরা। পর্যটনে আগ্রহীরা তাই সারা বছর ধরেই ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে থাকেন। হোক ছোট ট্যুর, তবু সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়া চাই। দিন কয়েকের জন্য আশ্রয় নেন কোনও নির্জন প্রাকৃতিক স্থানে। এমনই এক জায়গা নেতারহাট। শাল মহুয়া আর পলাশ গাছে ঘেরা এক সুন্দর অঞ্চল।

ঝাড়খণ্ড রাজ্যের লাতেহার জেলায় অবস্থিত এই নেতারহাট পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। অনেক চরাই উৎরাই পেরিয়ে পৌঁছতে হয় নেতারহাটে। এখান থেকে সূর্যদয় এবং সূর্যাস্তের ছবি দেখার মতো সুন্দর। এই টানেই নেতারহাটে পর্যটনের ঢল নামে। ১০ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে ম্যাগনেলিয়া পয়েন্ট। এখানে দাঁড়িয়ে ছোটনাগপুরের মালভূমি দেখা যায়।

বুঢ়া পাহাড়ি নদী ৪৬০ ফুট উঁচু থেকে ঝাঁপ দিয়েছে নীলে। ফলে সৃষ্টি হয়েছে জলপ্রপাত। এখান থেকে লোধ-এর দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। জঙ্গুলে পথ দিয়ে চলার সময় এক প্রকার রোমাঞ্চ জাগে শরীরে। কলকাতা থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে পৌঁছতে হবে রাঁচি। সেখান থেকে ভাড়া গাড়িতে সরাসরি নেতারহাট।

এখানে রয়েছে অজস্র ফরেস্ট রিসোর্ট। ভাড়া ৩০০০-এর মধ্যে। মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না বললেই চলে। কাছাকাছির মধ্যে ঘুরে আসতে পারেন পালামৌ থেকে। তাহলে আর দেরি কেন? আজই আপনার ট্যুর প্ল্যান করে ফেলুন। নেতারহাট বেড়াতে গেলে যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হবে, তা কোনও দিনও ভোলার নয়!