তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: একটি ব্যবসায়ী পরিবারের হাত ধরে প্রায় দেড়শো বছরেরও বেশী সময় আগে ‘অভিনব’ সরস্বতী পুজো শুরু হয়েছিল বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটির ভক্তাবাঁধ গ্রামে। এখানকার মাজি পরিবারের পুজোয় সরস্বতীর সাথে পুজিতা হন দেবী লক্ষীও। এমনটি আর সাধারণভাবে দেখা যায়না বলে অনেকে জানিয়েছেন।

ভক্তাবাঁধ গ্রামের মাজি পরিবারের বর্তমান বংশধর শ্যামাপদ মাজি বলেন, প্রায় দেড়শো বছর আগে ভক্তাবাঁধ গ্রামে কোন ধরণে পুজো-পার্বন ছিলনা। সেই সময় গ্রামের অনেকে দুর্গা পুজো করার কথা ভেবেছিলেন।

ওষুধ তৈরীতে ব্যবহৃত হরিতকি, পলাশ বীজ, অর্জুন গাছের ছাল ব্যবসায়ী তিন ভাই রতন মাজি, রনু মাজি ও অভি মাজি স্বপ্নাদেশ পেয়ে গ্রামে দেবী সরস্বতী বন্দনা শুরু করেন। পেশাগতভাবে ব্যবসায়ী হয়েও এলাকায় শিক্ষা দিক্ষা প্রসারে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

একদিকে পারিবারিক ব্যবসার কারণে লক্ষী ও অন্যদিকে শিক্ষার দেবী সরস্বতী। সেকারণেই সম্ভবত একচালা প্রতিমায় দেবী ও লক্ষী সরস্বতীর এক সাথে পুজো তাঁরা শুরু করেন বলে মনে করা হয়।

পরবর্ত্তী সময়ে নিঃসন্তান ছোট ভাই অভি মাজি তাঁর সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দেবোত্তর করে দেন। বর্তমানে মূলতঃ সেই টাকাতেই পুজোর অনেকটা খরচ উঠে আসে। বর্তমানে নবনির্মিত মন্দিরে এই পুজো উপলক্ষ্যে গ্রামের গণ্ডী ছাড়িয়ে এলাকার প্রচুর মানুষ জড়ো হন। বর্তমানে আরো বেশ কিছু পুজো হরেও ঐতিহ্য আর পরম্পরায় মাজি পরিবারের পুজোয় সর্বস্তরের মানুষের উন্মাদনা লক্ষ্যনীয়।

একই সাথে দেবী লক্ষীও সরস্বতী পুজো হলেও ভোগ নিবেদন হয় আলাদা আলাদাভাবে। লক্ষীর জন্য অন্নভোগের ব্যবস্থা থাকলেও সরস্বতীর ক্ষেত্রে ফল মূল, চিঁড়ে ভোগ দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে৷ একই সঙ্গে সেই শুরুর দিন থেকে আজও ধারাবাহিকতা মেনে পুজো উপলক্ষ্যে দু’দিন ধরে ব্রাহ্মণ, আত্মীয় স্বজন ও এলাকার মানুষকে প্রসাদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে বলে মাজি পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে।

ভক্তাবাঁধ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার বটব্যাল বলেন, রুনু মাজি ও তাঁর ভাইদের হাত ধরে গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের প্রথম প্রতিমা পুজো শুরু হয় এই গ্রামেই। পরবর্ত্তী সময়ে এর প্রায় ত্রিশ বছর পর শালিযাভা গ্রামে ও আরো পরে মল্লিকভি গ্রামে প্রতিমা পুজো শুরু হয় বলে তিনি জানান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.