স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দেশ স্বাধীন হয়েছিল ১৯৪৭ সালে৷ স্বাধীনতার পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ভারতে ১৮ লাখ কোটি টাকার ব্যাংক লোন নেওয়া হয়েছে৷ আবার ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত দেশে লোনের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫২ লাখ কোটি৷

অর্থাৎ, স্বাধীনতার প্রথম ৫৯ বছরে ১৮ লাখ কোটি ব্যাংক লোন থাকলেও ২০০৮ থেকে ২০১৪ ইউপিএ সরকারের আমলে তা ৩৪ লাখ কোটি বেড়েছে গিয়েছিল৷ এই তথ্য দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ শনিবার বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠকের শেষ দিনে সমাপ্তি ভাষণ দিয়েছেন মোদী৷ তাঁর এন ডি এ সরকার কোনও কেলেঙ্কারিতে সংপৃক্ত নয় – একথা বারবার বলেছেন তিনি৷ ‘সাফসুতরো এবং স্বচ্ছ’সরকারের ভাবমূর্তি জনসমক্ষে আনতে মোদীর ব্যাখ্যা,‘‘দেশে ব্যাংক থেকে দুই ভাবে লোন নেওয়া যেত৷ এক, Common বা সাধারণ পদ্ধতিতে৷ দুই, Congress পদ্ধতিতে৷’’

মোদীর আরও ব্যাখ্যা, ‘‘সাধারণ পদ্ধতিতে আপনি ব্যাংক থেকে ১০-২০ লাখ টাকার লোন নিতে যান৷ বাড়ি করবে বা ব্যাবসা বাড়াবে সেই জন্যই লোন চান৷ কিন্তু কংগ্রেস পদ্ধতিতে ব্যাংকের লোন পেতে হলে ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে ছোটার প্রয়োজন নেই৷ একটা ফোনেই হাজার হাজার কোটি টাকার লোন মঞ্জুরি হয়ে যায়৷’’

মোদী এদিন বলেছেন, ‘‘চৌকিদার থেমে থাকবে না৷ বিদেশ থেকে এই সব অর্থনৈতিক অভিযুক্তদের ভারতে আনা হবে৷’’স্বাভাবিকভাবেই মোদী বিজয় মালিয়া, নীবর মোদী কিংবা মেহুল চোকসির দিকে ইঙ্গিত করেছেন৷ প্রসঙ্গত, শিল্পপতি নীরব মোদী, মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়ারা ব্যাঙ্ক জালিয়াতি ও আত্মগোপনের পথ নিয়েছেন৷ সারা দেশে আলোড়ন পড়েছে – হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করে কোথায় গেলেন এই শিল্পপতিরা? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে এই তিন শিল্পপতির আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে বিদ্ধ করেছেন বিরোধীরা৷

বিজেপির নেতারা, বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি শিল্পপতিদের টাকা চুরি করে দেশ থেকে পালানোর নানা সাফাই দিয়েছেন৷ ইতিমধ্যেই তদন্তও শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তবে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিছুদিন আগেই এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিরোধী কংগ্রেসকে এই ইস্যুতে পালটা আক্রমণ করেছিলেন৷ নীরব মোদী, মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়ার নাম না করে প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে বলেছিলেন, ‘‘দেশ থেকে ওদের পালাতেই হয়েছে৷ কংগ্রেসের সরকার থাকলে বহাল তবিয়তে বসেই থাকতো৷ পালাতো হত না৷

কিন্তু জেনে রাখবেন, ওদের (অভিযুক্ত শিল্পপতিদের) ফিরে আসতেই হবে৷’’ শনিবার আবার একই কথাই বলেছেন৷ সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে৷ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দিকে চেষ্টা চলছে৷ দরকার হলে বিদেশে ওদের সম্পত্তি বাজেয়প্ত করা হবে নীরব মোদী, মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়ার সম্পত্তি৷ বিজেপির জাতীয় পরিষদের বৈঠকে ঠিক হয়ে গিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি নেতারা এবং প্রধানমন্ত্রী বলবেন, জীবনে প্রথম জি-২০ বৈঠকে গিয়ে তিনি কালোধন প্রসঙ্গে বক্তব্য রেখেছিলেন৷ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের কথা হয়েছে৷ এবার আর্থিক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ‘রিয়েল টাইম’তথ্য পাবে ভারত৷