নয়াদিল্লি: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী ও এই আইনের পক্ষে থাকা গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অশান্ত রাজধানী দিল্লি। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ ও ভজনপুরা এলাকায় সংঘর্ষে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১৩। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা দু’শোরও বেশি। দিল্লির একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁদের।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিস্তীর্ণ প্রান্ত। একদিকে সিএএ-র বিরোধিতা করে রাস্তায় শ’য়ে শ’য়ে মানুষ আন্দোলনে সামিল। উল্টোদিকে সিএএ-র সমর্থনে নেমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় অন্যপক্ষ।

রবিবার থেকে শুরু হওয়া সেই সংঘর্ষ মঙ্গলবার ব্যাপক আকার নেয়। মঙ্গলবার দিনভর অশান্ত থেকেছে উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা। সিএএ বিরোধী আন্দোলনকারী ও সিএএ সমর্থকদের মধ্যে চলে ব্যাপক পাথর-বৃষ্টি। এখাধিক দোকান, বাজারে চলে বেপরোয়া ভাঙচুর। একের পর এক দোকান ও বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ, মৌজপুর, চাঁদবাগ, ভজনপুরায় চরম আকার নেয় বিক্ষোভ-প্রতিবাদ-সংঘর্ষ। গোষ্ঠী সংঘর্ষে একের পর এক মৃত্যুর খবর মেলে এই এলাকাগুলি থেকেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই চারটি জায়গায় কার্ফু জারি করে প্রশাসন। কার্যত দুর্গের মতো ঘিরে ফেলা হয় এই চারটি এলাকা। তবে কিছুতেই হিংসায় রাশ টানা যাচ্ছে না। এলাকা একটু শান্ত হতেই ফের শুরু হচ্ছে গন্ডগোল। অলি-গলি থেকে কেউ ছুড়ছে বোমা কোথাও আবার উড়ে আসছে ইট-পাথর।

নতুন করে অশান্তি রুখতে তৎপর হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। দিল্লি লাগোয়া অন্য রাজ্যগুলির সীমান্ত পুরোপুরিভাবে সিল করে দেওয়া হয়েছে। বাইরে থেকে যাতে কেউ কোনওভাবে দিল্লিতে ঢুকে অশান্তিতে মদত দিতে না পারে সেব্যাপারে সচেষ্ট রয়েছে দিল্লি পুলিশ। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে পুলিশি নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।