কলকাতা: পর পর দু’দিন একবার করে ডায়ালিসিস চলে বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের৷ ফলে আগের থেকে ভাল আছেন ‘ফেলুদা’৷ তাই শুক্রবার তৃতীয় ডায়ালিসিস স্থগিত রাখল চিকিৎসকরা৷

বেলভিউ হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’বারের ডায়ালিসিসে তার কিডনির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ তাই শুক্রবারের তৃতীয় ডায়ালিসিস স্থগিত রাখা হয়েছে৷ ফের ডায়ালিসিস প্রয়োজন কি না, তা শনিবার সকালে মূল্যায়ণ করা হবে।

তবে বর্ষীয়ান অভিনেতার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এখনও স্বাভাবিক নয়৷ তবে রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্র স্বাভাবিক৷ তাছাড়া মাঝেমধ্যে তিনি চোখ মেলে তাকাচ্ছেন বলে দাবি চিকিৎসকদের৷ রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম থাকায় রক্ত দেওয়া হয়েছে৷ তবুও ভেন্টিলেশনেই রাখা হয়েছে তাকে৷

গত বুধবার প্রথমবার ডায়ালিসিস চলে বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের৷ তারপর বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বার ডায়ালিসিস সৌমিত্রবাবুর৷ তাতে তিনি কিছুটা সাড়া দেন চিকিৎসায়৷ তবে এখনও তিনি সঙ্কটমুক্ত নন বলে বেলভিউ হাসপাতাল সূত্রে খবর৷

এর আগে বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কিডনির সমস্যা ধরা পড়ায় ডায়ালিসিসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চিকিৎসকরা৷ বুধবার রাতের মধ্যেই ভালোভাবে তাঁর প্রথমবারের ডায়ালিসিস সম্পন্ন হয়৷ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বার ডায়ালিসিস হয়৷ তারপর শুক্রবার তৃতীয়বার ডায়ালিসিসের সিদ্ধান্ত ছিল৷ আগের থেকে ভালো তা স্থগিত রাখা হল৷

গত ৬ অক্টোবর থেকে হাসপাতালে ভরতি আছেন ৮৫ বছরের অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়৷ এই মূহুর্তে তার শারীরিক অবস্থার স্থিতিশীল হলেও, মাঝে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। তাঁর করোনাভাইরাস রিপোর্টও নেগেটিভ আসার পর সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন৷

কিন্তু গত সোমবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে বর্ষীয়ান অভিনেতাকে ‘এন্ডোট্র্যাকিয়াল ইনটিউবেশন’ তথা ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছে৷

বুধবার হাসপাতাল সুত্রে খবর ছিল, সৌমিত্রবাবুর কিডনি ঠিক মতো কাজ করছে না৷ ফলে কিডনি বিশেষজ্ঞরা ডায়ালিসিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ কারন ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ কমাতে ২-৩ বার ডায়ালিসিস করা হতে পারে৷

করোনা মুক্ত হওয়ার পর আশা দেখছিলেন তাঁর গুণমুগ্ধরা। কিন্তু অষ্টমী থেকেই ফের উদ্বেগের কথা শোনাচ্ছেন ‌চিকিৎসকেরা। নার্সিংহোমের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও বিপদ কাটেনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের।

সমস্যা বাড়িয়েছে তার মস্তিষ্কে সংক্রমণ বা কোভিড এনসেফ্যালোপ্যাথি। সৌমিত্রকে প্লাজমা থেরাপি ও মিউজিক থেরাপি দেওয়া হয়েছে৷ তাতে কিছুটা সুফল পাওয়া গিয়েছিল৷

স্নায়বিক চিকিৎসায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে বলে বেলভিউ হাসপাতাল সূত্রে খবর। বিদেশের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথাও বলা হচ্ছে।

ফেলুদার বয়স হয়েছে ৮৫ বছর। রয়েছে কো-মর্বিডিটি। বয়স এবং কো-মর্বিডিটির বিষয় দু’টি চিকিৎসার ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তিনি ভর্তি বেলভিউ হাসপাতালে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।