হরিদ্বার: দেশে ক্রমশ বাড়ছে জনসংখ্যা৷ জনবিস্ফোরণ রুখতে এবার কড়া দাওয়াইয়ের আরজি জানালেন যোগগুরু রামদেব৷ তাঁর মতে সরকারের এই ইস্যুতে কড়া আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে দুটির বেশি সন্তান নেওয়ার আগে দম্পতিরা দ্বিতীয়বার ভাবে৷ তবেই সম্ভব দেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধিতে লাগাম পড়ানো৷

রামদেবের মতে তৃতীয় সন্তান হলেই তাঁকে দেশের ভোটগ্রহণে অংশ নেওয়া থেকে বিরত হতে হবে৷ অর্থাৎ কোনও দম্পতির তৃতীয় সন্তান জন্মালে সে ভোট দিতে পারবে না, কোনও সরকারি সুবিধা পাবে না ও ভোটে দাঁড়াতেও পারবে না বলে আইন আনা উচিত সরকারের বলে মত রামদেবের৷

আরও পড়ুন : মানুষ বোকা নয়, মমতার পদত্যাগের ইচ্ছায় কড়া আক্রমণ অনুরাগের

তিনি এদিন বলেন ভারতের জনসংখ্যা কোনও ভাবেই ১৫০ কোটি ছাড়ানো উচিত নয়৷ এর চেয়ে বেশি জনসংখ্যা দেশের ক্ষতি করবে৷ আর সেটা তখনই সম্ভব, যখন সরকার কড়া হাতে জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে আসবে৷ হরিদ্বারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই দাবি করেন যোগগুরু রামদেব৷

এর পাশাপাশি, এদিন তিনি সোচ্চার হন গোহত্যা নিয়েও৷ গরু পাচারকারীদের কড়া ও নজরকাড়া শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমেই গোহত্যা বন্ধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি৷ গোমাংস না খেয়ে আরও অন্য ধরণের মাংস খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি৷ দেশ থেকে মদ নিষিদ্ধ করার পরামর্শও দেন রামদেব৷

বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অগুণতি মদের দোকানের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তিনি৷ এই প্রসঙ্গে মুসলিম দেশগুলির তুলনা টেনে আনেন যোগগুরু৷ বলেন, ইসলামিক দেশগুলিতে মদ নিষিদ্ধ, যদি মুসলিমরা এই পদক্ষেপ নিতে পারে, তাহলে ভারতের মত দেশ কেন পারবে না? প্রশ্ন রামদেবের৷

ফেব্রুয়ারি মাসেও এই ধরণের মন্তব্য করেন তিনি৷ আলিগড়ে একটি অনুষ্ঠানে রামদেব বলেছিলেন, ‘হিন্দু হোক বা মুসলিম, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে সেই দম্পতির সবরকম সুবিধা কেড়ে নিতে হবে।’ শুধু ভোটাধিকার নয়, চাকরি কিংবার চিকিৎসার অধিকারও কেড়ে নেওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন : ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি তুলে মমতার বাংলায় বিশাল বিজয় মিছিল বিজেপির

গত বছর একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মত যাঁরা বিয়ে করেননি, তাঁদের বিশেষ সম্মান দেওয়া উচিৎ।’ আর দুইয়ের বেশি সন্তান হলে সেই পরিবারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিৎ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে পুত্র সন্তানের জন্য ওষুধ বিক্রি করে বিতর্কে জড়ায় বাবা রামদেবের ফার্মেসি। হরিয়ানায় পুত্র সন্তানের লাভে মহিলাদের জন্য ওষুধ বিক্রি শুরু করে ওই সংস্থা৷ আয়ুর্বেদিক ওষুধ ‘পুত্রজীবক’ বিক্রি করেছিল রামদেবের পতঞ্জলী৷ এই ওষুধের প্যাকেটের দাম ছিল ৩৫ টাকা৷