বিশেষ প্রতিবেদন: অন্যের উপরে ভরসা করে পিতৃত্বের স্বাদ উপভোগ করলেন তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তি। পুত্র বা স্বামী হয়ে তিনি যতটা না আনন্দ পেয়েছিলেন আদর্শ বাবা হতে পেরে নিজেকে খুবই গর্বিত মনে করেন তিনি। তাঁর জীবনের কাহিনী সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি ফেসবুক পেজে। যদিও কারোর নাম উল্লেখ করা হয়নি ওই পোস্টে। মানবিক আবেদন ধর্মী ওই পেজের পোস্ট সাধারণের কাছে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় নেয়নি।

হিউম্যান অফ আমেদাবাদ নামক ওই ফেসবুক পেজে চলতি মাসের ২৩ তারিখের পোস্ট অনুসারে, একটি সম্ভ্রান্ত এবং রক্ষণশীল পরিবারে জন্মেছিলেন তিনি। ছোটবেলাতেই বাড়ির বড়রা ঠিক করে ফেলেছিলেন ভবিষ্যতের জীবনসঙ্গী। একটু বড় হওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর শারীরিক গঠন বা বৈশিষ্ট্য আর পাঁচটা ছেলের মতো নয়। পরে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে জানতে পারেন যে তিনি পুরুষ নন, হিজরা। কাউকে কিছু বলতে পারেননি তিনি। ২২ বছর বয়সে বিয়ে হয় বাগদত্তার সঙ্গে। স্ত্রীকে যে তিনি যৌনতৃপ্তি দিতে পারছেন না এবং নিজেও সেই সুখ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি। একদিন স্ত্রী এবং পরিবারের সকলকে নিজের সমস্যার কথা জানিয়ে সংসার ত্যাগ করেন। স্ত্রীকে বলেছিলেন ভালো ছেলে দেখে বিয়ে করে নিতে।

হিজরাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন তিনি। হিজরাদের মতো করেই উপার্জন করতে থাকেন। একদিন ছেলে কোলে নিয়ে এসে হাজির হয় তাঁর স্ত্রী। জানতে পারেন যে যার সঙ্গে ওই তাঁর স্ত্রীর পরে বিয়ে হয়েছিল সে মাতাল এবং দুশ্চরিত্র। তাই ছেলেকে নিয়ে প্রথম স্বামীর কাছে চলে এসেছে ওই মহিলা। মা এবং সেই ছেলের দায়িত্ব নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন তিনি। হিজরাদের পথেই উপার্জন করে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে দেন তাঁদেরকে। সেই ছেলেটি এখন এমবিএ পাস করে নিজের পছন্দের পাত্রীকে বিয়ে করেছেন। সেই ছেলের লেখাপড়া এবং যাবতীয় খরচ জুগিয়েছে তাঁর হিজরা বাবা।

সমাজের প্রতি ওই বাবার বার্তা, “আমি আমার বাবার ভালো ছেলে হতে পারিনি, আমার স্ত্রীর ভালো স্বামী হতে পারিনি। কিন্তু, আমার ছেলের আমি আদর্শ বাবা হতে পেরেছি। যে ছেলেটির জমের সঙ্গে আমার জীবনের কোনও সম্পর্ক নেই। এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”