তেহেরান:  ভয়ঙ্কর হচ্ছে পরিস্থিতি। চরমে উঠল আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, তাতে যে কোনও মুহূর্তে বিশ্বে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে। এই আশঙ্কায় যখন বুক বাঁধছে গোটা বিশ্বের মানুষ, ঠিক সেই সময় ইরাকে আমেরিকার উপর একের পর এক প্রত্যাঘাত ইরান এয়ারফোর্সের।

জানা যাচ্ছে, মার্কিন সেনাঘাঁটি টার্গেট করে ফের হামলা করেছে ইরান। ইরাকের মসুলে কিন্দি সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইয়ারফোর্স। এই ঘাঁটিতে বহু মার্কিন সেনা-জওয়ান ছিলেন। এমনকি রাখা রয়েছে বহু যুদ্ধাস্ত্র। আর সে কারণে এই ঘাঁটিকেই টার্গেট করেছে ইরানের এয়ারফোর্স। গত কয়েক ঘন্টায় এই নিয়ে মোট তিনবার অতর্কিতে মার্কিন বাহিনীর উপর হামলা চালাল ইরান।

বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে ইরাকে অন্যতম এই শক্তিশালী মার্কিন ঘাঁটি মসুলে। আর সেটি হামলার পর দাউ দাউ করে জ্বলছে। তবে এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে এই হামলায় বহু সেনা-জওয়ানের মৃত্যু ঘটতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির খবরও এখনও তেমনটা জানা যাচ্ছে না। এর ঠিক কয়েক ঘন্টা আগেই পরপর মার্কিন বাহিনীর উপর দুটি হামলা চালায় এয়ারফোর্স।

শনিবার ইরাকের গ্রিন জোনে মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর। পরপর দুটি মিসাইল এসে পড়ে মার্কিন দূতাবাসের কাছেই। সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে সাইরেন। সতর্ক করা হয় মার্কিন কূটনীতিক ও সেনাদের। উল্লেখ্য, সোলেমানির মৃত্যুর পর পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কা করে ইরাকে বিরাট সংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করেছে আমেরিকা।

শুক্রবারই ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বিমান বন্দরে মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে নিহত হন দুই ইরানি শীর্ষ সেনা অফিসার। মৃত্যু হয়েছে জেনারেল সোলাইমানির। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে আবার বাগদাদের ইরানি দূতাবাসের উপর মার্কিন কপ্টার ঘুরেছে। পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় ফের যুদ্ধ যুদ্ধ হাওয়া। এরই মধ্যে ফের আমেরিকার বিরুদ্ধে কড়া হুশিয়ারি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী।

তিনি বলেছেন, যেসব অপরাধী তাদের নোংরা হাত দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে জেনারেল সোলাইমানির রক্ত ঝরিয়েছে তাদের জন্য কঠোর প্রতিশোধ অপেক্ষা করছে। কুদস ব্রিগেডের কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানির প্রতি এক শোকবার্তায় এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সর্বোচ্চ নেতা ইরানে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, বিশ্বের কুচক্রি ও শয়তানি শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে কার্যত যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছেন জেনারেল সোলাইমানি। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, বিগত বছরগুলোতে জেনারেল সোলাইমানি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তার পুরস্কার পেয়েছেন। একজন বীরের কাছে এর থেকে বড় পুরস্কার কি হতে পারে। তবে তাঁর চলে যাওয়ায় তাঁর রেখে যাওয়া পথ বন্ধ হবে না বলে মনে করেন তিনি।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV