গুয়াহাটি: বোড়ো চুক্তির উদযাপনে অসমে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত দু’মাস আগে থেকে অসমে যাওয়া ঠিক হলেও মোদীকে দু’বারই বাতিল করতে হয়েছিল ওই সফর। অবশেষে শুক্রবার অসমে গেলেন মোদী। সেখানে তাঁকে গোলাপ দিয়ে স্বাগত জানান বোড়ো নেতারা।

মোদী অসমে পৌঁছে ভাষণে বলেন, কেন্দ্র সরকার উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশে আছে। বরো চুক্তির জন্য সবাইকে অভিনন্দনও জানান তিনি। কারোর নাম না করে মোদী বলেন, ” কিছু মানুষ আমাকে ডান্ডা দিয়ে মারার কথা বলে, কিন্তু যে মোদীর ওপর এত মা-বোনের আশীর্বাদ রয়েছে তাঁকে যত ডাণ্ডাই মারো, কিছুই হবে না।”

মোদী জানান, উত্তর পূর্বে পর্যটন শিল্পের উন্নতি করা হবে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চল সন্ত্রাস মুক্ত করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বোড়োল্যান্ড আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ভারতের মূল শাখায় স্বাগত জানাচ্ছি৷ এখন আর পিস্তল, গুলি চলবে না৷ আমি উন্নতির সব রকমের চেষ্টা করব৷’ পাশাপাশি তিনি বলেন, অসমে কয়েক দশক ধরে গুলির লড়াই চলেছে। অসমে শান্তি ফেরা এক কথায় ঐতিহাসিক ঘটনা।

জানুয়ারিতেই উগ্রপন্থী সংগঠন এনডিএফবি-র সঙ্গে শান্তি চুক্তি সই করেছে সরকার। পৃথক বোরোল্যান্ডের দাবিতে লড়ছিল লড়ছিল এই সংগঠন। অসম সরকার, কেন্দ্র এবং এনডিএফবির মধ্যে এই ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বার্তা দেন, বোড়ো জাতির উন্নয়নে বিশেষ লক্ষ্য দিয়েছে সরকার৷ অসমের নিজস্বতা-কে নষ্ট হতে দেবে না বিজেপি তথা এনডিএ৷

ওই চুক্তি অনুযায়ী বোড়োল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়নের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করে কেন্দ্র। পাশাপাশি চুক্তিতে বলা হয়েছে, বিটিএবি এলাকাকে বোরোল্যান্ড টেরিটরিয়াল রিজিয়ন নামে চিহ্নিত করা হবে। বোরো ভাষাকে দেবনাগরীর হরফ সহকারে অসমেয়র অফিসিয়াল ল্যাঙ্গুয়েজেরও মর্যাদা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই চুক্তিতে অনুযায়ী, কোনও বহিরাগত ওখানে ভোটাধিকার পাবে না। বাইরে থেকে কাজ করতে এলে লাগবে ওয়ার্ক পারমিট।