কলকাতা: ‘‘ওদের রাজনীতি ছাড়া উচিত৷’’ মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মমতা মনে করেন, ‘‘ওদের মতো মানুষের দেশে থাকা উচিত নয়৷’’ মমতা আরও বলেছেন, ‘‘ওদের জানা উচিত রাজনীতিটা কী…৷’’ উত্তেজিত মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির শীর্যনেতাদের উদ্দেশ্যে বলে চলেছেন মঞ্চের একপাশে বসে৷ বেহালায় কিছুক্ষণ আগেই জনসভা শেষ হয়ে গিয়েছে৷ মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে বাক্যবাণে বিদ্ধ করেছেন৷

মঞ্চের পাশে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম Wire -কে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ‘‘ওরা’’ বা ‘‘ওদের’’ বলতে মমতা যে শুদু মোদী-শাহকেই ইঙ্গিত করেছেন তা আর বলের অপেক্ষা রাখে না৷ কারণটাও স্বাভাবিক৷ কিছুক্ষণ আগেই ঘটে গিয়েছে, বিদ্যাসাগর কলেজের ঘটনা৷ ভগ্ন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভূ-লুন্ঠিত করেছে কারা, সে উত্তর খোঁজার পালাও শুরু হয়েছে৷ তখনও বিদ্যাসাগর কলেজে পৌছননি মুখ্যমন্ত্রী৷ বললেন, আমি অত্যন্ত মর্মাহত৷ ওদের মতো মানুষের দেশে থাকা উচিত নয়৷ ওদের রাজনীতি ছাড়া উচিত৷ ওদের জানা উচিত রাজনীতিটা কী…৷ রাজনাীতি মানে ত্যাগ, জন্মভূমির জন্য আত্মোৎসর্গ৷ রাজনীতি মানুষের জন্য, গুণ্ডাগিরি হুলিগানিজমের জন্য নয়…৷’’ ইংরাজীতে স্যাক্রিফাইস, ডেডিকেশন ফর মাদারল্যান্ড, গুণ্ডা-ইজম, হুলিগানিজম – এক নিৎশ্বাসে বলে চলেছিলেন মমতা৷

উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও একই দোষের ভাগী করেছেন মোদী-শাহ৷ মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির পয়লা নম্বর অভিযোগ, তিনি দেশদ্রোহী৷ বালাকোটে বায়ুসেনা কতজন জঙ্গি মেরেছে তার প্রমাণ চান৷ পাকিস্তানের টিভি তা ফলাও করে প্রচার করে৷ মোদী বাংলার নির্বাচনী মঞ্চ থেকে বারবার বলছেন, দিদি তাকে প্রধানমন্ত্রী মানেন না৷ কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বলে মানেন৷ মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির দ্বিতীয় অভিযোগ, তিনি গুণ্ডা পোষেন৷ ‘দিদিগিরি’চালাচ্ছেন, সিন্ডিকেট, তোলাবাজি ট্যাক্স ইত্যাদি৷

মমতার বিরুদ্দে বিজেপি তিন নম্বর অভিযোগ, তিনি ‘মা মাটি মানুষে’র কথা বলে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন৷ পশ্চিমবঙ্গে দিদিকে মানুষ ভয় পায়৷ মানুষের মন থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা চলে গিয়েছে৷ সেক্ষেত্রে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধেই স্যাক্রিফাইস, ডেডিকেশন ফর মাদারল্যান্ড, গুণ্ডা-ইজম, হুলিগানিজম – শব্দমালা ব্যবহার করে বাংলায় মোদী-শাহকেই কোণঠাসা করতে চেয়েছেন মমতা৷

২০১৯ সালে বাংলার নির্বাচন কী শুধুই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-নরেন্দ্র মোদীর যুদ্ধ৷ বাংলায় বিজেপির বৃদ্ধি কী মমতাকে চাপে রেখেছে? মমতার জবাব, তিনি ওই সব কিছুই ভাবেন না৷ কেউ না কেউ তো বিরোধী দলে থাকবে৷ আমি এক নম্বর, কিন্তু দুই, তিন, চার নম্বরতো থাকবেই৷ কে দ্বিতীয় তা আমি গ্রাহ্য করি না৷ আমি প্রথমেই থাকবো৷