স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বললেন, এঁরা দেশের নামও বদলে দিতে পারে কোনওদিন৷ সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনে নামছে তাঁর দল৷

পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের লাগাম ছাড়া মূল্যবৃদ্ধিতে অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ জানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আজ, বৃহস্পতিবার ইলেকট্রিক স্কুটিতে চেপে নবান্ন গেলেন তিনি। চালকের আসনে ছিলেন খোদ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এদিন কালীঘাটের বাড়ি থেকে নির্দিষ্ট সময় বেলা এগারোটার কিছু পরে স্কুটারে নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।  কালীঘাট থেকে নবান্নে পৌঁছতে আধঘন্টার বেশি সময় লেগে যায়। পিছনে বসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলা ঝুলছিল পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাখা ফেস্টুন।

এদিন অনেক পিছনে ছিল পুলিশের নিরাপত্তা সম্বলিত গাড়ি। তবে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে কোনও দলীয় কর্মী ছিলেন না৷ ছিলেন না্ রাজ্যের মন্ত্রিসভার অন্য কোনও সদস্য। একেবারে ধীরগতিতে স্কুটার নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন ফিরহাদ। রাস্তার ধারে অনেকেই স্কুটিতে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন। মুখ্যমন্ত্রীকেও তাঁদের উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা যায়।

নবান্নে প্রবেশ করার আগে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, মোদী সরকার যখন সরকারে এসেছিল, তখন গ্যাসের দাম, তেলের দাম কত ছিল? তাঁর দাবি, সেই ফারাক দেখলেই বোঝা যাবে। শুধু নির্বাচন এলেই বিনামূল্যে গ্যাস দেয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেটা রান্নার গ্যাস নয়, ভাঁওতা বা মিথ্যার ‘গ্যাস’ দিয়ে যায়। একইসঙ্গে সন্ধ্যায় ই-স্কুটারে করেই নবান্ন থেকে বাড়ি ফিরবেন বলে জানান মমতা।

বিগত কয়েক মাস ধরেই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের শাসকদলকে নিশানায় নিয়েছে তৃণমূল। এর আগে টানা তিন দিন তৃণমূলের যুব ও মহিলা সংগঠন রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে এর বিরুদ্ধে। পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই যাদবপুর থেকে যদুবাবুর বাজার পর্যন্ত মিছিল করেছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। অন্যদিকে বেহালা ১৪ নম্বর থেকে ঠাকুরপুকুর থ্রি-এ বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মিছিল করেছে রাজ্যের শাসক দল। পেট্রোলের উপরে ১ টাকা সেস কমানোর কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিবাদকে নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন পেট্রোপণ্য জিএসটির আওতায় আসলে লিটার পিছু দাম কমবে ১০ থেকে ১৫ টাকা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেট্রোপণ্যকে কেন জিএসটির আওতায় আনার দাবি করছেন না। যার জন্য জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক ডাকলেই হয়ে যায়।য তা না করে তিনি নাটক করছেন বলেই অভিযোগ করেছে বিজেপি।

পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতিদিনই বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দু-একটা দিন বাদ দিলে প্রতিদিনই ২৫ থেকে ৩০ পয়সা করে বাড়ছে দুই জ্বালানির দাম। বাংলায় পেট্রোলের দাম ৯১ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে গত শুক্রবার। এদিকে, বুধবার রাত থেকে ভর্তুকিহীন রান্নার গ্যাসের দাম ২৫ টাকা বেড়েছে। এই নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে রান্নার গ্যাসের দাম সাকুল্যে ১০০ টাকা বাড়লো।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.