ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: মনে পড়ে ‘আদাবের’ কাহিনী? রাতের অন্ধকারে নদী পার করে মাঝি ভাইয়ের পোলা-মাইয়ার কাছে যাওয়ার তীব্র বাসনা। তবুও দেশে ফিরতে পারেনি সে। দুশমনরা তাকে যেতে দেয়নি দেশে।

সেই ‘আদাবের’ কাহিনী যেন এখন অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে পরিযায়ীদের জীবনে। মরন-বাঁচনের দোলাচলে দোদুল্যমান তাঁদের জীবন।

কারন, লকডাউন দেশ। শতমাইল দূরে বাড়ি। ঘরে ফেরার মরিয়া চেষ্টা। মেলেনি সরকারি সাহায্য। অগত্য উপায় না দেখে রেল লাইন ধরেই হেঁটে চলেছেন ওরা।

জানা নেই কবে শেষ হবে এই পথ। তবুও হেঁটে চলেছে ওরা। কারন, ঘরে যে তাঁদের অপেক্ষায় চেয়ে রয়েছে স্ত্রী-সন্তানেরা।

পরিযায়ী ওরা। একটু স্বচ্ছল ভাবে থাকার আশায় নিজের জীবন বিপন্ন করে মাসের পর মাস ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করে ওরা। স্বচ্ছল ভারত ভাবে না ওদের কথা। ফলে ওরা ট্রেন লাইনেই মরে।

তবে শুক্রবার ভোরে ঔরঙ্গাবাদের মতোও মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটলেও, বাইরের ৪০ডিগ্রী তাপমাত্রা আর ঝলসানো রোদে সামান্য কিছু খাবার আর জল সম্বল করেই শুক্রবার থেকে রেললাইন ধরে হাঁটতে শুরু করেছেন রমাকান্ত পাহাড়িয়া। সঙ্গে আরও ৬জন পরিযায়ী শ্রমিক।

গন্তব্য গ্রেট নয়ডা থেকে মধ্যপ্রদেশ। দূরত্ব প্রায় ৭০০কিলোমিটার। তবুও থামতে রাজি নয় ওরা। মনের জোরই শেষ সম্বল ওদের।

ওই পরিযায়ী দলের এক শ্রমিক বলেন, ” সড়কপথে পুলিশের চেকিং এড়াতেই এই রেলপথ ধরেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আমাদের গ্রামের বাড়ি মধ্যপ্রদেশের ভাটানওয়ারা জেলার পান্নাতে। এখনও পর‍্যন্ত দিল্লি-হাওড়া রেললাইন ধরে প্রায় ১০ কিলোমিটার হেঁটেও ফেলেছি।”

আরও এক পরিযায়ী শ্রমিক রমাকান্ত বলেন, “গত ২৪ মার্চ থেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছি। লকডাউনের আগে গাজিয়াবাদে গিয়েছিলাম। লকডাউনে আটকে যাই। সঞ্চিত টাকাও ফুরিয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। তাইতো রেললাইন ধরে বাড়ি পৌঁছনোর আশায় হাঁটতে শুরু করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “গরীবদের জন্য আসলে কেউ নেই। আমাদের কথা ভাবার অবকাশ নেই কারও। ফলে আমরা বাঁচি অথবা মরি, তাতে সরকার কিছুই যায় আসে না।”

শুধু রমাকান্তরা একা নন। তাদের বাড়ি ফেরার পথে দেখা হয়েছে বিহারের একদল পরিযায়ীদের সঙ্গে। সেইদলে রয়েছে ৪পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরাও বাড়ি ফেরার আশায় হেঁটে চলেছে আগ্রা থেকে। পাড়ি দিয়ে ফেলেছে ১২০০মাইল পথ। তবুও এই যাত্রাপথের শেষ কোথায় তা এখনও অজানা ওদের কাছে।

আর প্রতিদিনই শয়ে শয়ে পরিযায়ীদের অভাব অনটন আর দুর্দশার ছবি ভেসে উঠছে সংবাদ মাধ্যমে। তবুও ওদের দিকে তাকায় না কেউ। ফলে কখনও রেললাইন ধরে কখনও আবার শাক সবজি ফলের ট্রাকে লুকিয়ে ঘরে ফেরার বাসনায় অস্থির ওরা।

এদিকে গৌতমবুদ্ধ নগরের জেলাশাসক বলেন, “খুবই মর্মান্তিক বিষয়। এভাবে লাইন ধরে হাঁটলে প্রাণের ঝুঁকি থেকে যায়। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করব। যাতে এই সমস্ত শ্রমিকদের জন্য কোনও সুরাহার ব্যবস্থা করা হয়।”

একই কথা জানিয়েছেন, জিবি নগরের জেলা শাসক দিয়ংকর সিং। তিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং ঘরে ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব