নয়াদিল্লি: যে ভাবে বাংলার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে তা দেখে বিশিষ্ট পরিচালক তথা অভিনেত্রী অপর্ণা সেনের মনে হয়েছে – এরা সব ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে পালাচ্ছে৷ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেমনটাই জানিয়েছেন চলচ্চিত্র জগতের এই ব্যক্তিত্ব৷ সংবাদ সংস্থাকে তিনি জানিয়েছেন, এই অভিনেতার যখন সিপিএম ক্ষমতায় ছিল তখন তাদের সঙ্গে ছিল, এরা তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে এরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মিছিল করেছে, এখন বিজেপির জমি তৈরির হওয়ায় সেদিকে ঝুঁকছে ৷

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকজন অভিনেতা অভিনেত্রী মুকুল রায় এবং দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে দলে যোগ দেন ৷ যাদের মধ্যে ছিলেন- পার্নো মিত্র , ঋষি কৌশিক, কানঞ্চনা মৈত্র, রুপাঞ্জনা মিত্র প্রমুখ৷ তাঁর বক্তব্য, মমতা ধীরে ধীরে জমি হারাচ্ছেন এবং বিজেপি তা পাচ্ছে আর এরাও বিজেপিতে যাচ্ছে৷ যেখানে ক্ষমতা সেখানই এরা যাবে ৷ এই রকমই সব লোক ৷ এদের তিনি পরোয়া করেন না এবং এরকম ভাবতে পারেন না বলে জানান তিনি৷ অপর্ণা সেন দিল্লি রয়েছেন তাঁর নতুন ছবি ‘ঘরে বাইরে আজ ’ ছবির প্রিমিয়ার উপলক্ষ্যে৷ তিনি আরও বলেন, এটাই সাধারণ মানুষের প্রবণতা ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে ক্ষমতা যেদিকে সেদিকে যাওয়ার৷

বিগত কয়েক বছর ধরেই তৃণমূল বেশ কয়েকজন বাংলার সুপারস্টারদের ভোটে প্রার্থী করেছে৷ দেব দ্বিতীয়বার লোকসভা সদস্য হয়েছেন৷ তাছাড়া এবার নুসরৎ জাহান এবং মিমি চক্রবর্তীকে প্রথমবারের জন্য সাংসদ করা হয়েছে৷

রাজনৈতিক সামাজিক বিষয়ে আওয়াজ তোলার জন্য অপর্ণা সেন পরিচিত৷ তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জমি পাচ্ছে তৃণমূলের ব্যর্থতার জন্য এবং তেমন আর কোনও বিকল্প না পাওয়ায়৷ কারণ বাম এবং কংগ্রেসের বাস্তবে তেমন কোনও অস্তিত্ব নেই৷ পাশাপাশি তিনি মনে করেন, বাম এবং কংগ্রেসের ফের উত্থান দরকার কারণ শক্তিশালী বিরোধী দরকার৷

প্রসঙ্গত , বাম জমানার শেষদিকে নন্দীগ্রাম সিঙ্গু ইস্যুতে অপর্ণা সেন বাম সরকারের বিরোধিতা করে প্রচারে নেমেছিলেন যাতে ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা আসতে সাহায্য করেছিল ৷ সেই সময় সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো গাড়ির কারখানা এবং নন্দীগ্রামে কেমিক্যাল হাবের জন্য সরকারের জমি নেওয়া নিয়ে গণ আন্দোলন হয়েছিল৷

তবে বহু ভাষায় ছবি করা এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব জানিয়ে দেন, তিনি কখনও রাজনৈতিক দিক থেকে মমতা সমর্থক নন বরং তার সমালোচলক৷ তবে নন্দীগ্রামের গণহত্যার তিনি বিরোধী ছিলেন আর সেটাতে মমতা কোনও কারণ ছিল না৷ সিঙ্গুরে যেভাবে লোকদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল তা তিনি বিরোধিতা করেন যেখানে তার উল্টোদিকেই জমি ছিল টাটার কারখানা করার জন্য৷

সেই সময় শুধু তিনি নন,এমন আরও অনেকে ছিলেন যারা মমতাকে সমর্থন করেননি৷ মমতা ওই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ভোট টানতে পেরেছিলেন৷ তিনি দাবি করেন, এর আগে বহুবার তিনি মমতার সমালোচনা করেছেন৷ তাছাড়া মমতা সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগযোগ নেই বলেই দাবি করেন তিনি৷

সম্প্রতি কলকাতায় জুনিয়ার ডাক্তারদের আন্দোলনের সময় এবং অশান্ত ভাটপাড়ায় শান্তি ফেরানোর দাবিতে নাগরিক সমাজের অন্যাদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন৷ যদিও জানতে চাওয়া হয় তাঁর কার্যলাপের জেরে বিজেপি সুবিধা পাচ্ছে কি না ? তাঁর জবাব , তা একাবারেই না৷ কারণ ভাটপাড়ায় গেলেও সেখানে বিজেপি ও তৃণমূল উভয়ের বিরুদ্ধেই অভিযোগ শোনেন তিনি৷