সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তোমরা কি নিয়ে পড়তে চাও? ওরা উত্তর দিতে পারেনি। কি করে দেবে? সাইক্লোনে ওদের এই উত্তর হাওয়ার তোরে উড়িয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে। অনেকের পড়াশোনার স্বপ্ন জলের তলায় পড়ে থেকে ভিজতে ভিজতে ছিঁড়ে চলে গিয়েছে। না, ওরা বাঁচাতে পারেনি বিদ্যা শিক্ষার ভবিষ্যত ভাবনাকে। ঝড় ভেঙে , দুমড়ে, মুচড়ে এক করেছে সবকিছু। ওরা সুন্দরবনের এক একলা দ্বীপের একমাত্র মাধ্যমিক স্কুলের পড়ুয়া। পাশে দাঁড়িয়েছে ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’।

আমফানের তান্ডব কেড়ে নিয়েছে ওদের ভিটে-মাটি।সব হারিয়ে আজ ওরা বিপন্ন,সহায়হীন। সুন্দরবন, পাথরপ্রতিমার,সাগর। গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে গিয়েছে আমফানের তান্ডবে। অসহায় মানুষগুলোর জন্য দিনের শেষে যে পরিমাণ সাহায্য পৌঁছেছে, তাতে পেট ভরে না। জীবনও চলে না। সব হারানোদের তবু বেঁচে রয়েছে শিক্ষার স্বপ্ন। নির্ঝড়ে স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়া পড়ুয়াদের শিক্ষার স্বপ্ন দেখাচ্ছে গ্রামীণ হাওড়ার আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’।

সারা ভারত ডাক কর্মচারী সংগঠন(হাওড়া ডিভিশন)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির তরফে ৮-১০ জনের একটি দল আম্ফান বিধ্বস্ত সাগর ব্লকের ঘোড়ামারা দ্বীপের খাসিমাড়া গ্রামে গিয়ে ‘বাদাবনে উত্তরণ’ শীর্ষক কর্মসূচিতে দ্বীপের একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৪২০ জন পড়ুয়ার হাতে তুলে দিল খাতা,পেন,পেন্সিল,টর্চ লাইট,ফাইল সহ অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী। সংস্থার সম্পাদক তাপস পাল জানান, ‘মাত্র ৭-৮ দিনের মধ্যে এই উদ্যোগ। শিক্ষায় স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যেই আমাদের পথচলা। তাই এক্ষেত্রেও শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ঘোড়ামারা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জীব সাগর।

পাশাপাশি,আম্ফানের তান্ডবে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ঘোড়ামারা দ্বীপের ৪১০টি পরিবারের হাতে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, নুন,সোয়াবিন, সুজি, মোমবাতি, দেশলাই, মাস্ক, স্যানিটাইজার, স্যানিটারি ন্যাপকিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি,সংস্থাটির তরফে দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক হাজার গাছের বীজ ছড়ানো হয়।

প্রসঙ্গত আমফানে বিধ্বস্ত সুন্দরবনের পাশে এসে দাঁড়াল বিশ্ব ব্যাংক। দুই ২৪ পরগনার ১৯০ টি গ্রামকে গড়ে ২৫ লক্ষ টাকা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সুপার সাইক্লোন আমফান বিধ্বস্ত বাংলার সুন্দরবন। এখনো বহু অঞ্চল জলের তলায়। ধ্বংস হয়েছে বহু বাড়ি, চাষের জমি থেকে শুরু করে নদীবাঁধ। এখনো বিশাল সংখ্যক মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু নেই। এমতাবস্থায় সুন্দরবনের পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব ব্যাংক।

রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তর জানিয়েছে, সুন্দরবন অঞ্চলের ১৯০ টি গ্রাম সুপার সাইক্লোন আমফানে ভয়ংকর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। গত সপ্তাহে হওয়া একটি ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্বব্যাংকের আধিকারিকদের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেন পঞ্চায়েত আধিকারিকরা। তারপরই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের তরফে।জানা যাচ্ছে, ১৯০ টি গ্রামকে ২৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেবে বিশ্ব ব্যাংক। শুধু প্রয়োজনীয় জায়গায় টাকা খরচ করা হবে। পরবর্তী সময়ে আরো টাকা সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছে তারা।

বাংলায় আমফানের তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ৷ ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির৷ সুপার সাইক্লোনের ধংসলীলায় তছনছ হয়ে গিয়েছে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অংশ৷ ঘূর্ণিঝড় আমফানের এই ভয়াবহতাকে আয়লার থেকেও ভয়ঙ্কর বলে ব্যাখ্যা করেছিল রাষ্ট্রসংঘ।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।