সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : সাপে কামড়ালেও আপনাকে সারিয়ে দেবে এই শেকড়। অথবা সাপের বিষও আটকে দেয় এই গাছের ছাল। এমনই সব কথা বলে এখন গ্রামীণ অঞ্চলে চলে বুজরুকির খেলা। তলায় তলায় চলে সাপ নিধন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাপের বিষ দাঁত ভেঙে দেওয়া হয় কিছু ক্ষেত্রে বের করে নেওয়া হয় ভেনম গ্ল্যান্ডও। এমনভাবে বুজরুকির মাধ্যমে সাপের খেলা দেখানো রদ করল বন্য প্রাণী প্রেমীরা।

বন্যপ্রাণ আইনে সাপ মারা, সাপের খেলা দেখানো নিষিদ্ধ করেছে বন দফতর। সেই আইন কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েই বিভিন্ন এলাকায় সাপুড়েরা বিষধর সাপ ধরে তাদের বিষ দাঁত ভেঙে খেলা দেখানো ও মানুষকে বোকা বানিয়ে বুজরুকি, মানুষের মনে কু সংস্কার ছড়িয়ে চলেছে। যার জন্য মানুষ ভীত হয়ে নির্বিষ সাপ মারতেও উদ্যত হয়। তা রদ করল বন্যপ্রানী প্রেমীরা। ‘আমরা শ্যামপুর (হাওড়া)বাসী’ ফেসবুক গ্রুপের ‘Wildlife of shyampur’ গ্রুপের সদস্য ও ইকো ক্লাব এর সদস্য সৌম্যদীপ সাঁতরা মেসেজ করেন পাকুড়িয়া গ্রামে সাপুড়েরা সাপ নিয়ে বুজরুকি দেখাচ্ছে। সৌম্যকে খবর দেয় ওরই বন্ধু পাকুড়িয়া গ্রামের সৈকত মন্ডল। সৌম্য কলকাতায় থাকার কারণে ‘wildlife’ গ্রুপ সদস্যদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়ার আবেদন করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে বন্যপ্রাণ উদ্ধারকারী শিবনাথ সামন্ত আরও কিছু বন্য প্রাণী প্রেমীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সঙ্গে উলুবেড়িয়া রেঞ্জার, শ্যামপুর থানায় যোগাযোগও করা হয়। বন্ধ করানো হয় খেলা। উদ্ধার করা হয় একসঙ্গে অনেকগুলি সাপ।

জানা গিয়েছে, ‘চারটে কেউটে , একটি গোখরো এবং একটি বালুবোড়া সাপ ছিল। সবগুলিী বিষধর সাপ। এগুলির দাঁত ছিল, কিন্তু তিনটে কেউটের বিষদাঁতও ছিল, কিন্তু ভেনম গ্ল্যান্ড আগেই বের করে নেওয়া হয় ফলেই আগেই সেগুলির বিষক্ষয় হয়েছিল। গ্রামবাসীরা বিষ দাঁত জানেন কিন্তু ভেনম গ্ল্যান্ড জানেন না তাই উপরে সব ঠিক রেখে ভিতর থেকে অকেজো করে দেওয়া হয় সাপগুলিকে এবং চলতে থাকে শিকড় বাকড় বিক্রির বুজরুকি খেলা। তা বন্ধ করে ওই বন্য প্রাণী প্রেমীরা। জানা গিয়েছে ততক্ষণে প্রায় দেড় হাজার টাকার শিকর বিক্রি করে ফেলেছিল ওই সাপুরেরা।

ফেসবুক গ্রুপ ‘Wildlife of shyampur’-এর সদস্যরা এলাকার মানুষকে সাপুড়েদের কু-সংস্কার ছড়ানো নিয়ে বোঝান। গ্রামবাসীরা অনেকেই সাপুড়েদের কাছে টাকা দিয়ে শেকড় বাকর নিয়েছিল। বোঝানোর পর অনেকে সাপুড়েদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চান। সাপুড়েদের সাপ নিয়ে ব্যবসা না করার অনুরোধ করা হয়। সন্ধ্যায় সাপগুলি বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

গ্রুপের সদস্য অর্পণ দাস জানিয়েছেন , ‘এই বুজরুকি বেআইনির সঙ্গে অত্যন্ত জঘন্য একটি কাজ, যেখানে অবলা প্রাণীগুলিকে বন্দি করে তাদের দেখিয়ে, মানুষের মনের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে বিভিন্ন শিকড় বাকর বিক্রি করে লোক ঠকানো হয়। এবার যদি কেউ বলে এঁদের উপার্জন কেরে নেওয়ার প্রচেষ্টা হচ্ছে তাহলে বলে রাখি আমরা তাঁদেরকে কাজের সন্ধানও দিয়ে আসি। যোগাযোগ করতেও বলে আসি।’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।