সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : শুরু হয়েছে আনলক ১। কিন্তু এখনও অনেক সংস্থাই কর্মীদের বাড়ি থেকেই কাজ করতে বলছেন। পাশাপাশি দীর্ঘ লকডাউনে শুয়ে বসে শরীর লক হয়ে গিয়েছে। মনের দরজায় পড়েছে তালা। এক চাবিতে শরীরের সমস্ত জং ধরে যাওয়া তালা ভাঙবে ফিটনেসে। দুই বাঙালির স্পেস্যাল ‘ফিটনেস ফাইটিং ফান্ডা’। কোরিয়া থাইল্যান্ডে ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় তাদের এই ভাবনা। এবারে ভারতের সর্বত্র তারা পৌঁছে যেতে চাইছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে এই সময়ে মনের অবস্থাও খারাপ করছে করোনা। অনেকেই বাড়িতে বসে বিভিন্ন চিন্তা করছেন। তৈরি হচ্ছে ডিপ্রেশন। প্রভাব পড়ছে শরীরের উপর। এটা থেকেই মুক্তি দিতে চাইছেন পিউ মজুমদার এবং মৈনাক ব্যানার্জি। করাচ্ছেন জুম্বার অভ্যাস। তারা জানাচ্ছেন এই জুম্বা যেমন ইমিউনিটি বাড়ায়। আবার ফুসফুস বিশেষজ্ঞরা জুম্বা আবার ফুসফুসে করোনা সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে। মন ও শরীরের ফিটনেস বৃদ্ধি করতে তাই রণে নেমেছেন দুই বাঙালি ফিটনেস প্রফেশনাল পিউ ও মৈনাক।

দেশ-বিদেশে করোনা সংক্রমণ রুখতে চালিয়ে যাচ্ছেন এই ফিটনেস ফান্ডা। তারা দুজনেই ফিটনেস এবং জুম্বা প্রশিক্ষক। যে দেশগুলো করোনা সংক্রমনের হার বেশি মৈনাক এবং পিউ জোর দিচ্ছেন সেই দেশগুলিকে। তাদের প্রশিক্ষণ চলছে অনলাইনে। চলছে ফেসবুক কনসার্ট। যেখানে যা ভুল হবে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এই দুই বাঙালি প্রশিক্ষক। দ্য ডেন ফিটনেস স্টুডিওর সোশ্যাল সাইট থেকে চলছে এই প্রশিক্ষণ। করোনা সংক্রমনের হার ঠেকাতে পিউ মৈনাকের এই উদ্যোগ। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে পিউ মৈনাক একটি ফিটনেস এর ওপর প্রতিযোগিতাও করতে চান। যেখানে সবাই অংশগ্রহণ করতে পারেন। যারা আগে কখনো শারীরিক চর্চা করেননি তাদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে অংশগ্রহণ করাতে চান বাঙালি দুই প্রশিক্ষক।

রবীন্দ্রনাথ টেগর হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জন ডক্টর সতীশ সাউয়ের কথায়, ‘ডিপ্রেশন কিন্তু করোনার একটা কারণ। ডিপ্রেশন কাটাতে চাই মোটিভেশন এবং এক্সারসাইজ। প্রতিদিন জুম্বা এবং ফিটনেস এক্সারসাইজ করলে ব্রেন থেকে বডিতে ছাড়বে সেরাটুল এবং ইন্ডোফিল নামক কেমিক্যাল। যা ডিপ্রেশন দূর করে সুগার কন্ট্রোল করে ব্লাড প্রেসারকে কন্ট্রোল করে। জুম্বা শরীরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রিলিজ করে যা ফুসফুসের জন্য ভালো। বিশেষত ডায়াবেটিক পেশেন্টকে অনেকটাই সুস্থ রাখে জুম্বা এবং ইমিউনিটিও বাড়ায়।’

কবে জিম খুলবে তা নিয়ে অনিশ্চিয়তায় জিম কর্তারা। এই টানাপোড়নের মাঝখানেই তাদের সোশ্যাল সাইটের মাধ্যমে মৈনাক এবং পিউ চালিয়ে যাচ্ছেন সুস্থ রাখার ফান্ডা। ‘দ্য ডেন ফিটনেস’ স্টুডিওর কর্ণধার মৈনাক ব্যানার্জি কথায়, ‘জিম খুললে সরকারি নিয়ম মেনে জিম চালাবো কিন্তু আমি মনে করি সুস্থতাটা প্রয়োজন। সেই জন্যই আমাদের এই অনলাইন প্রশিক্ষ। বিদেশের মানুষরা অনেক বেশি সচেতন শরীর নিয়ে। আমরা এখনও সচেতন নই। তাই করোনা যুদ্ধে সবার সুস্থতার কথা মাথায় রেখেই আমরা আমাদের সোশ্যাল সাইট মাধ্যমে বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন , ‘আগে এটা আমাদের পেশা হলেও এখন এটা আমাদের নেশা। শারীরিক চর্চার কোনও বয়স হয় না ব্যস্ততার মাঝেও অন্তত নিয়মিত তিশ মিনিট শারীরিক চর্চা সকলের প্রয়োজন। জিম যতদিন না খুলছে আপাতত শরীরচর্চাটা বাড়ি থেকে আপনারা চালিয়ে যেতে পারেন জুম্বা এবং অন্যান্য শারীরিক চর্চার মাধ্যমে।’

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প