স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আজব পরিস্থিতি৷ দলের মধ্যে যাঁদের তিনি অপছন্দের তালিকায় রেখেছেন – তাঁরাই নাকি মুকুল রায়কে ফোন করছেন৷ আবার যদি উলটো দিক থেকে দেখা যায়, রাজ্যে কঠোর মমতা বিরোধীদের দলে চাইছেন মুকুল রায়৷ বিজেপির অন্দরে আলোচনা হয়ে গিয়েছে – মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে যিনি প্রকাশ্যে সমালোচনা এবং তিরষ্কার করতে ভয় পান না – এমন নেতার গুরুত্ব বিজেপিতে বেশি৷

এই ফর্মুলাতেই দলে এসেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন সদস্য এবং বিষ্ণুপুরের সাংসদ – সৌমিত্র খাঁ৷ তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল৷ সৌমিত্র নাকি সাংসদ কোটার ৭ কোটি টাকার হিসেব দিতে পারবেন না – অভিষেকের এই অভিযোগ থেকেই পরিষ্কার সৌমিত্রকে রেয়াত করতে প্রস্তুত ছিলেন না তিনি৷ অন্যদিকে, বিজেপি-তে পা রেখেই সৌমিত্র বলেছেন – এই স্বৈরাচারি ‘ভাইপো’অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই তাঁকে তৃণমূল ছাড়তে হয়েছে৷

প্রশ্ন উঠেছে, সৌমিত্র কী একা? নিশ্চই নয়৷ অভিষেকের নজরে কারা-কারা রয়েছেন? অবশ্যই সেই তৃণমূল নেতারা, যাঁরা স্যোশাল মিডিয়ায় মমতা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন৷ এই তালিকায় থাকা বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরাকে ইতিমধ্যেই তাড়ানো হয়ছে৷ বিজেপির দরজায় কড়া নাড়ছেন অনুপম৷ দরজা খোলার অপেক্ষায়৷ বৃহস্পতিবার হাওড়ায় অভিষেক বলেছেন, তৃণমূলের আবর্জনা গ্রহণ করছে বিজেপি। যাদের অনেক আগেই ফেলে দিয়েছি তাঁদের জায়গা দিচ্ছে বিজেপি।

একসময় এখন খবর শোনা গিয়েছিল বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি৷ এআইসিসি-এর বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ অধীন নাকি মুকুল রায়ের সঙ্গে পাকা কথা বলে রেখেছেন৷ প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন সভাপতি হয়েছেন সোমেন মিত্র৷ ‘অভিমানী’কিন্তু রং বদলাননি৷ ‘হাত’দিয়ে ‘পদ্মফুল’তোলেননি৷ বিজেপিতে অধীরকে স্বাগত জানাতে তৈরি ছিলেন মুকুল৷

কারণ মমতার বিরুদ্ধে কড়া ভাষা ব্যবহারে তৈরি থাকেন অধীর৷ কংগ্রেসে তাঁর ‘মমতা-বিরোধী’আচরণ প্রসিদ্ধ৷ এই কারণেই অন্যান্য প্রদেশ নেতাদের থেকে (এক প্রদেশ নেত্রীও বিজেপিতে যেতে আগ্রহী ছিলেন বলে খবর৷ তবে তিনি মমতাকে কড়া ভাড়ায় আক্রমণ করেছেন- এমন ঘটনা বিরল৷ সেক্ষেত্রে তাঁকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী নন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ৷)

কারা ফোন করছেন মুকুল রায়কে? তৃণমূলের যাঁরা অভিষেকের কালো তালিকায় রয়েছেন অবশ্যই তাঁরা৷ তবে ২০১১ সালে যাঁরা সারা জাগিয়ে মমতার হাত ধর্ছিলেন, তবে ৭ বছর পর প্রায় হা-দম হয়ে বসে পড়েছেন – সেইসব নেতার আর তৃণমূলে খুব গুরুত্ব নেই৷ তাঁরাও লোকসভায় রাজ্য থেকে বিজেপির টিকিটে লড়াই করতে চাইছে৷ রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন – সৌমিত্র খাঁ দিয়ে সবে বউনি হয়েছে৷ আরও চমক অপেক্ষা করছে৷ অন্যদিকে বিজেপির অন্যতম রিক্রুটার এবং দলবদলের নায়ক মুকুল রায়ও বলেছেন সৌমিত্র খাঁ ছাড়াও অন্তত ৬ জন তৃণমূল নেতা বিজেপিতে আসছেন৷ নির্বাচনে লড়বেন৷

১. অনুপম হাজরা – প্রথম নামটাই যে তাঁর হবে, সেবিষয়ে সন্দেহ থাকার কথা নয়৷ সৌমিত্রের বিজেপিতে যোগদানের পর সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি বিতর্কিত পোস্ট করেন অনুপম। যেখানে সৌমিত্রের সঙ্গে নিজের একটি ছবি দিয়ে অনুপম লেখেন, পলিটিক্যাল হেন্ডিক্যাপ হয়েও দিদির উপর আস্থা রাখি… আর তুই পারলি না। ততক্ষণ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকই ছিল। এরপরেই দল থেকে তাঁকেও বহিস্কার করা হয়।

এরপরেই সেই পোস্ট ডিলিট করেন অনুপম। ফলে প্রশ্ন উঠতে থাকে তাহলে সত্যিই কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? বিজেপি সূত্রে খবর, তিনিও সৌমিত্রের পথে হেঁটেই বিজেপিতে যোগ দেবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েকদিন পরেই তিনি যোগ দিতে পারেন তিনি। ইতিমধ্যে বিজেপির সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক কথাবার্তাও সারা হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

২. ভারতী ঘোষ – প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ভারতী ঘোষের বিজেপি-তে যোগদানের সম্ভাবনা প্রায় পাকা হয়ে গিয়েছে৷ লোকসভা ভোটের আগেই ওই আইপিএস অফিসার বিজেপি-তে যোগদান করছেন – সেই সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে৷ ভোটে লড়াই করতে চান জঙ্গলমহলের কোনও কেন্দ্র খেকে৷

৩. তৃণমূল কংগ্রেসর দুই দাপুটে মেয়র – এই দুইজেনর মধ্যে একজন একসময় মুকুল রায়ের খুবই ঘনিষ্ট ছিলেন৷ এদের দুজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন মুকুল নিজেই৷ তবে কথাবার্তা সবে মাত্র প্রাথমিক স্তরে৷

৪. এক প্রাক্তন গোয়েন্দা পুলিশ কর্তা – ইনি তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী ছিলেন৷ এখন বিজেপি তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন৷ মতুয়া সম্প্রদায়ের বাসস্থান উত্তর২৪পরগণার বনগাঁতে৷ সেখানেই বিজেপির টিকিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন তিনি৷ তবে মতুয়া পরিবারের অন্যতম সদস্য শান্তনু ঠাকুরের নামও রয়েছে আলোচনায়৷

৫. তৃণমূলের এক মহিলা সাংসদ – দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের এক মহিলা সাংসদও যোগাযোগ রেখেছেন মুকুল রায়ের সঙ্গে৷ তার সঙ্গে কথাবার্তাও অনেক দূর এগিয়েছে৷৷

৬. বলিউডের এই বাঙালি নায়িকা – কিছুদিন আগেই বিজেপিতে যোগদান করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মৌসুমি চট্টোপাধ্যায়৷ শোনা যাচ্ছে তিনি কলকাতার কোনও আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন৷ তবে বলিউডের আরও এক বাঙালি নায়িকা বিজেপির টিকিটে রাজ্য থেকে লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়াতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলেই খবর৷