সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : পাহাড় জঙ্গলমহল সফরে মুখ্যমন্ত্রী , প্রধানমন্ত্রী যান বটে কিন্তু সুন্দরবন? বাংলার ফুসফুসের খবর ক’জন রাখেন। এই তো গেল আমফান। ধ্বংস করেছে প্রচুর ম্যানগ্রোভ। পরিবেশপ্রেমীদের তখনই ভাবনা ছিল এতকাল তো বড় বড় ঝড়কে আটকে দিয়েছে সুন্দরবন। এবার কী হবে? ভরসা যোগাচ্ছে সুন্দরবনলজি কোর্স। যে লড়াই শুরু হয়েছিল নেতাজীর সহযোদ্ধার হাত ধরে তা এখন বাংলার ফুসফুসকে বাঁচাতে উঠে পরে লেগেছে।

ইন্দিরা গান্ধীর নজর টানতে নেতাজির সহযোদ্ধা পুলিনবিহারী বৈদ্যের উৎসাহে তিনজন পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়েছিলেন দিল্লি। ইন্দিরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু আদতে কিছুই হয়নি। অগত্যা নিজের সাধ্য মতো উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেন পুলিনবিহারী এবং তাঁর ছেলে বিজেন্দ্র বৈদ্য। বাবার উদ্যোগ সেদিন অনেকের কাছে পাত্তা না পেলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সুন্দরবন বাঁচানো বড়ই প্রয়োজন। বাবার কাজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন বিজেন্দ্র বৈদ্য।

আগামী প্রজন্মের কাছে সুন্দরবনকে বাঁচানোর জন্য পাঠক্রমে উনি আনতে চান ‘অ্যাকাডেমি অফ এনভারমেন্ট অ্যান্ড সুন্দরবনলজি’। তাই নিয়ে গঠন করা হয়েছে বোর্ড। এই পুঁথিগত শিক্ষার মাধ্যমে সুন্দরবনের প্রাচীন সংস্কৃতি লোকসংস্কৃতি টুসু উৎসব আগামী প্রজন্মের কাছে চিরন্তন করে রাখতে চান বিজেন্দ্রবাবু। ‘অ্যাকাডেমি অফ এনভারমেন্ট এন্ড সুন্দরবনলজি’ বিদেশের পাঠ্যক্রমেও রাখতে চান বিজেন্দ্র বাবু। নিজের হাতে তৈরি করেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। নাম ‘শতমুখী পরিবেশ কল্যান কেন্দ্র’। এসবই তাঁদের প্রকৃতিকে সুন্দর করে তোলার প্রচেষ্টা। ‘শতমুখী পরিবেশ কল্যান কেন্দ্র’ পড়ুয়াদের পুঁথিগত বিদ্যার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করে সুন্দরবনের ইতিহাস নিয়ে। সংরক্ষণ করা হয় বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা প্লাস্টিকের। কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবেদন করা হয় সুন্দরবনের রাস্তা উন্নয়নের ইট তৈরীর জন্য।

আর্থসামাজিক সমস্যা বরাবরই খারাপ সুন্দরবনের। বিজেন্দ্রবাবুর ভাবনা শুনলে চমকে যাবেন। বড় পানা থেকে কিভাবে বিভিন্ন হস্তশিল্প তৈরি করা যেতে পারে, নিচে পানা ওপরে কাদা জমিতে কিভাবে চাষ করা যেতে পারে এইসব কাজ করছেন।

তাঁর বক্তব্য, ‘শুধু কাঠ, মধুর ভরসায় থাকলে বাঘের পেটে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই সমস্ত কাজ জানলে পেটও চলবে সঙ্গে বাঘের পেটে যাওয় থেকেও মানুষকে রক্ষা করা যাবে।’ আবার পশুদের জন্য তৈরি করেছেন কবরস্থান। তাঁর রাজ্য সরকারের সুন্দরবন বিভাগের কাছে অনুরোধ, অরবিন্দ সরকার, স্বপনকুমার দাশগুপ্ত, মণীন্দ্রকুমার বৈদ্য, নেতাজির সহযোদ্ধা বিপিনবিহারী বৈদ্যের অনুপ্রেরণায় ৩৪ দিন পায়ে হেঁটে দিল্লি পৌঁছছিলেন ১৭ সেপ্টেম্বর, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে। উদ্দেশ্য সুন্দরবন রক্ষা। সেই দিন স্মরণে রেখে তা পরিচিত ‘সুন্দরবন জাগরণ আন্দোলন’ নামে। এঁদের জন্য ওই দিনটিকে সরকার সুন্দরবন যুব দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।’

বাবাকে দেখেই সুন্দরবনের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা জন্মায় বিজেন্দ্রবাবুর। হলদিয়ার এক বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। নব্বইয়ের শতকে নিজের পিঠে জঞ্জাল পরিষ্কার করা হয় লিখে বাজারে বাজারে ঘুরতেন। লোকে তাকে পাগল বলত। সকালের শৌচকর্ম করতে যারা মাঠে-ঘাটে যেতেন পিছন ঘুরে দেখতেন বিজেন্দ্র বাবু বালতিতে ছাই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। উদ্দেশ্য একটাই বাঁচাবেন সুন্দরী সুন্দরবনকে। প্লাস্টিক, ফেলে দেওয়ার শালপাতা কুড়িয়ে এনে টেরাকোটা তৈরির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। বাবা পুলিন বৈদ্য কাশিনগরে সুন্দরবন নিয়ে সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছিলেন নিজের হাতে। খ্রিস্টপূর্বাব্দের সুন্দরবনের ঐতিহাসিক জিনিসপত্র সংগ্রহ করেছিলেন নিজের হাতে তৈরি ওই সংগ্রহশালায়। সুন্দরবনের গন্ডারের মাথার খুলি দাঁত চোয়াল রাখা রয়েছে এই সংগ্রহশালায়। তা বাঁচানোর জন্য লড়াই করেছেন বিজেন্দ্রবাবু।

বিজেন্দ্রবাবু জানাচ্ছেন, ‘নতুন প্রজন্ম সুন্দরবন ছেড়ে জীবিকা সংস্থানের জন্য পাড়ি দিচ্ছেন অন্য জেলায় বা অন্য রাজ্যে। অথচ সাউথ-ইস্ট এশিয়ার ক্লাইমেটকে বাঁচিয়ে রেখেছে সুন্দরবন। বাঁচিয়ে রেখেছে কলকাতাকে। ভারত এবং বাংলাদেশ সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য লড়ুক একসাথে। আগামী প্রজন্ম যেখানেই থাকুক না কেন ফিরে আসুক মাটির কাছে।’ জানিয়েছেন,’যতদিন বেঁচে থাকবেন সুন্দরবনকে বাঁচানোর জন্য তৈরি করবেন পরিবেশ সৈনিক। কুর্নিশ জানাতে চান সেই সমস্ত সৈনিকদের যারা সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ লড়াই চালাচ্ছেন।’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।