মুম্বই- অভিনেতা কুশল পাঞ্জাবির অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া বলিউড জুড়ে। গত বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় ঝুলন্ত দেব। পাওয়া যায় সুইসাইড নোটও। ইংরেজিতে লেখা এই সুইসাইড নোটে কুশল কারওকে দায়ী করেননি। সম্পত্তির বাটোয়ারাও পরিবারের মধ্যেই করে গিয়েছেন তিনি সুইসাইড নোটেই।

কুশল পাঞ্জাবির মতোই বলিউড এর আগেও এমন কয়েকটি মর্মান্তিক আত্মহত্যার সাক্ষী থেকেছে। দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা-

১) গুরুদত্ত- ১৯৫০ থেকে ১৯৬০-এর বিখ্যাত এই পরিচালক অভিনেতার মৃত্যুও মর্মান্তিক ভাবে হয়েছিল। ২০১৪-র অক্টোবরে মুম্বইয়ে তাঁর বাড়ি থেকেই উদ্ধার হয়েছিল দেহ। অতিরিক্ত মদ্যপান ও ঘুমের ওষুধই তাঁর মৃত্যুর কারণ বলে জানা যায়।

২) মনমোহন দেসাই- বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবির প্রযোজনা করেছেন। অমর আকবর অ্যান্টনি, কুলি, মর্দ-এর মতো ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পরে অভিনেত্রী নন্দার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। ১৯৯৪-এর মার্চে তিনি বাড়ির ব্যালকনি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

৩) দিব্যা ভারতী- ৯-এর দশকের নায়িকা দিব্যা ভারতী দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। কিন্তু মাত্র ১৯ বছর বয়সেই যাত্রা শেষ হয়েছিল তাঁর। তাঁর স্বামী সাজিদ নাদিওয়ালার থেকে জানা যায়, ১৯৯৩-এর ৫ এপ্রিল পাঁচতলা বাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন দিব্যা।

৪) সিল্ক স্মিতা- আসল নাম বিজয়লক্ষ্মী। ছোট বেলাতেই অনাথ হয়েছিলেন। এর পরে অন্ধ্রপ্রদেশের এক মহিলা তাঁকে দত্তক নিয়েছিলেন। মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেন। এর পরে অভিনয়ও করেন। ১৯৯৬-এ চেন্নাইয়ের বাড়িতে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

৫) পরভিন বাবি- ৭-এর দশকের জনপ্রিয় নায়িকার মৃত্যুও মর্মান্তিক ভাবে হয়েছিল। টানা তিন দিন বাড়ির সামনে খবরের কাগজ ও দুধ নেননি বলে পড়শিদের সন্দেহ হয় এবং তারা পুলিশে খবর দেন। বাড়ির ভিতর থেকেই তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পাশেই একটি হুইল চেয়ার ছিল। ময়নাতদন্ত করে জানা গিয়েছিল গত তিনদিন তিনি কিছু খাননি।

৬) জিয়া খান- প্রথম ছবিতেই অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন জিয়া। আমির খানের সঙ্গেও কাজ করেছিলেন। কিন্তি ২০১৩-য় তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সূরজ পাঞ্চোলির সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। শোনা যায় তিনিই আত্নহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিলেন।

৭) প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়- টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। বালিকা বধূ ধারাবাহিকে অভিনয় করতেন। বিগবসেও অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু বহুদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। ২০১৬য় আত্মহত্যা করেন তিনি।